Image description

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত শুক্রবার ঘোষণা করেছে, যে প্রায় সব বৈশ্বিক শুল্ক যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপ করেছেন, তা আইনবিরুদ্ধ। আদালত বলেছে, ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতার ব্যবহার অতিরিক্ত এবং আইন অনুযায়ী বৈধ নয়।

 

কোর্টের এই রায় মে মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের রায়কে সমর্থন করে, যা ট্রাম্পের যুক্তি খারিজ করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার বৈশ্বিক শুল্ক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন অনুযায়ী বৈধ। তবে আপিল কোর্ট বলেছে, এই আইন শুল্ক বা কর আরোপের জন্য বিস্তৃত ক্ষমতা দেয় না। আদালতের ভাষায়, ‘শুল্ক আইন অনুযায়ী বৈধ নয় এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নেই।’

রায়ে বলা হয়েছে, আপিল কোর্ট শুল্ক অবিলম্বে বাতিল করেনি। শুল্কগুলো মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, যাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই এটি জানিয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘রায় যদি স্থায়ী হয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।’

 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (১৯৭৭) প্রেসিডেন্টকে বিদেশি ঝুঁকি বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। আইনটি আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জো বাইডেনের শাসনামলেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোর্ট স্পষ্ট করেছে, শুল্ক আরোপ এই আইনের আওতায় আসে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় মার্কিন অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যান্য দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে পারে, যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।

 

কোনো রায়ের পরিণতি হিসেবে ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রভাবিত হতে পারে। যদি সর্বোচ্চ আদালত আপিল কোর্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, তবে শুল্কগুলো বাতিল হতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, যদি রায় উল্টে যায়, তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা আরও বাড়বে।

বর্তমানে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্ক বলবৎ থাকবে। তবে তামা, লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক আলাদা কর্তৃপক্ষের অধীনে, তাই তা প্রভাবিত হবে না।