ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখাবয়ব যুক্ত করে রাবণের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ভোট চুরি, নির্বাচনে অনিয়ম, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউন ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সদস্যরা নয়াদিল্লির রাইসিনা রোডে সংগঠনটির সদর দপ্তরে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। বিজয়া দশমীর উদ্যাপনকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রূপ দিয়ে তাঁরা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাবণের ১০ মুখে যাঁদের ছবি
আঙুল তো উঠেগি—রাবণ দহন ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রাবণের কুশপুত্তলিকায় মোদি, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও শিল্পপতি গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানির মুখাবয়ব যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত গৌতম ও রাজনাথ সিংয়ের মুখাবয়বও রাখা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তরুণ সমাজের সমস্যা সমাধান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মোদি সরকার। কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর মাধ্যমে তাঁরা ভোট চুরি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, দেশের সম্পদের অপব্যবহার, সাম্প্রদায়িকতা এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকির বিষয়গুলো তুলে ধরতে চান।এ ছাড়া যৌন সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মোদি সরকার সুরক্ষা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে এনএসইউআই।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এনএসইউআইয়ের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের মধ্যেই এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনটি তাঁর পদত্যাগ দাবি করে আসছে। তাদের অভিযোগ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন।এনএসইউআইয়ের জাতীয় গণমাধ্যমবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত রবি পাণ্ডে বলেন, বিজয়া দশমী অশুভের পরাজয় ও শুভের বিজয়ের প্রতীক। রাবণ দহনের মাধ্যমে সংগঠনটি ভোট চুরি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব, সম্পদের অপব্যবহার, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান, গণতন্ত্র ও ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এনএসইউআইয়ের দিল্লি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অখিলেশ যাদব জানান, বিজয়া দশমী উপলক্ষে সংগঠনটির কার্যালয়ে ব্যতিক্রমী এ কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। এতে ১০টি মুখের মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টিতে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন অশুভ শক্তির প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, নির্বাচনী জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সংবিধানের সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ এই বিক্ষোভ। নির্বাচনে অনিয়ম এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের ক্ষতিগ্রস্ত করা বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
শীর্ষনিউজ