ইয়েমেনের তাইজে সংঘাত তীব্র হওয়া ও জ্বালানির সংকটে পানির সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এতে অন্তত ১৬ লাখ শিশুসহ প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ।
ইয়েমেনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি আখিল আইয়ার জানান, তাইজ-আদেন করিডরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথগুলোতে বিঘ্ন ঘটায় খাদ্য ও জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, ট্রাকে করে সরবরাহ করা পানির দাম বেড়ে আগের তুলনায় তিন গুণ হয়েছে।
এতে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ তাইজে আশ্রয় নিয়েছেন। ইয়েমেনজুড়ে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের অর্ধেকেরও বেশি এই গভর্নরেটে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
সংঘাতের পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর, তাইজে, ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫২ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
ডিজেলের সংকটে পানির পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গমের আটার মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।আখিল আইয়ার বলেন, ‘তাইজের শিশুরা বছরের পর বছর ধরে সংঘাত ও বঞ্চনা সহ্য করছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে যে পরিষেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেগুলো হারানোর সামর্থ্য তাদের নেই। ’
এ পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষ, পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
সংস্থাটির আশঙ্কা, সংঘাত ও জ্বালানির সংকট অব্যাহত থাকলে শিশুদের জন্য জরুরি সেবা এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।
শীর্ষনিউজ