যুক্তরাজ্যে ইউটিউব ভিডিও দেখে গাড়ি চালানো শিখে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল ১৬ বছরের রুহুল ইসলাম। এতে মৃত্যু হয় ৭৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের। এই ঘটনায় রুহুল ইসলামকে ৬ বছর ১১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্ট। দুর্ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই বড় ভাইয়ের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছর।
২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মিডলটনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত টেরেন্স জেমস তার ১০ বছর বয়সী নাতনিকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় রুহুল ইসলামের চালানো নিসান মাইক্রা গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়।
আদালতে উপস্থাপিত ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে রুহুল ইসলাম বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি একাধিকবার লালবাতি অমান্য করেন, বিপজ্জনকভাবে অন্য গাড়িকে অতিক্রম করেন এবং সাইকেল লেন ব্যবহার করেন।
দুর্ঘটনার পর গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়া টেরেন্স জেমসকে সালফোর্ড রয়্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আদালতে জানা যায়, রুহুল ইসলাম ইউটিউব ভিডিও দেখে নিজে নিজে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। তিনি অটিজমে আক্রান্ত বড় ভাইকে ভুল বুঝিয়ে গাড়ির চাবি নিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় স্থানীয় চিলি পট নামের একটি টেকওয়ে প্রতিষ্ঠানের খাবার ডেলিভারির কাজ করছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর প্রথমে নিজের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন রুহুল ইসলাম। গাড়িটি তাঁর বড় ভাই চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।
আদালতে বিপজ্জনক গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো, লাইসেন্স ও বিমা ছাড়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপরাধ স্বীকার করেন রুহুল ইসলাম।
১৩ অক্টোবর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক কেট কর্নেল বলেন, সঠিকভাবে গাড়ি চালানো না জানা একজন ব্যক্তির হাতে গাড়িটি কার্যত বিপজ্জনক অস্ত্রে পরিণত হয়েছিল।
বিচারক আরও বলেন, রুহুল ইসলাম রাস্তার সঠিক পাশে গাড়ি চালালে টেরেন্স জেমস আজও বেঁচে থাকতেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা আদালতে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তাঁরা জানান, টেরেন্স জেমস ছিলেন পরিবারের অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। তার মৃত্যু পুরো পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।
রুহুল ইসলামকে ৬ বছর ১১ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি কারামুক্তির পর আট বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।