Image description

নিজের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কে আসতে পারেন, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট ‘গ্রক’-এর কাছে প্রশ্ন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়েও এআইকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকের সময় ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে মাস্কের মালিকানাধীন এআই চ্যাটবট গ্রকের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

বৈঠকে নিজের প্রেসিডেন্ট পদ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ছাড়াও ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা জানতে চান ট্রাম্প।

ওই বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তার বরাতে টাইম জানায়, সে সময় ভেনেজুয়েলার নৌযানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। এসব নৌযানকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরোকে আটক করা হলে ভেনেজুয়েলার জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে—ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রক মাদুরোকে দমনমূলক ও ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় নেতা হিসেবে বর্ণনা করে।

তার পতনে অনেক ভেনেজুয়েলান উল্লাস করতে পারেন বলেও গ্রক উত্তর দেয় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে মাদুরোর আটকের ঘটনায় উল্লাসের দৃশ্য দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকের অভিজ্ঞতার পর গ্রকের সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বাড়ে। সরকারি ও কৌশলগত কাজে এআই ব্যবহারের বিষয়টিও তার প্রশাসনে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শীর্ষনিউজ