বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর শেষ হওয়া এলাকাগুলোতে বাদ পড়া ও নতুন ভোটারদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক যোগ্য নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, এমন বিতর্কের মধ্যেই এই নির্দেশ এলো।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, এসআইআরের আওতায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩.৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯.৫ কোটি ভোটারকে অনুপস্থিত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত অথবা ‘অন্যান্য’ কারণে তালিকা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর চলাকালে যেসব যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বা মুছে গেছে, তাদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি প্রথমবার ভোটার হতে যাওয়া তরুণদেরও এই বিশেষ অভিযানের আওতায় আনা হবে।
নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এসআইআর চলাকালে কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে তাকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। কমিশনের মূল নীতিও হলো, কোনো যোগ্য নাগরিক যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন ও কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন।
বিশেষ অভিযানে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা বর্তমান ভোটার তালিকার সঙ্গে এসআইআরের আগের তালিকা মিলিয়ে দেখবেন। এর মাধ্যমে আগে ভোটার তালিকায় থাকা কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিন যাচাই করবেন বিএলওরা।
প্রতিটি বিএলওকে সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। পুরো যাচাই অভিযান এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া নতুনভাবে ভোটার হওয়ার যোগ্য তরুণ এবং এসআইআরের সময় বাদ পড়ে যাওয়া প্রকৃত ভোটারদের কাছ থেকে ঘটনাস্থলেই ফর্ম ৬ সংগ্রহ করবেন বিএলওরা। এরপর এসব আবেদন ও সংশ্লিষ্ট তালিকা স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএদের সঙ্গে সরাসরি ভাগ করে নেওয়া হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এসআইআর চলাকালীনও নতুন ভোটারদের জন্য বিএলওদের সঙ্গে ফর্ম ৬ রাখার নির্দেশ ছিল।
ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত
এই উদ্যোগের সঙ্গে ফর্ম ৬ নিয়েও নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিশনের বৈঠকের পর এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
কমিশন জানায়, ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি ‘বিশেষভাবে এসআইআরের জন্য’ প্রযোজ্য ছিল। এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্মই ব্যবহার করা হবে।
এরপর এসআইআর সম্পন্ন হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলোতে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত এসআইআর-সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে এসব এলাকায় নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলতে আবেদনকারীদের এখন কেবল বিধিবদ্ধ ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটার বাদ পড়া ও ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কমিশন অবশ্য বলছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য যোগ্য নাগরিকদের বাদ দেওয়া নয়; বরং যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তালিকার নির্ভুলতা বজায় রাখা। নতুন বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এসআইআরের সময় বাদ পড়ে যাওয়া ভোটারদের আবার তালিকায় ফেরানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া