দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের পর সেটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।
উড়োজাহাজটি প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত এবং পরে ছিনতাই বা অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠালে ইসরায়েলে ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু হয়। তবে এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি আজ বুধবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়।
উড়োজাহাজটিতে ১৫০ থেকে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ইসরায়েলি বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে—যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি ৭৭০০ কোড পাঠায়, যা সাধারণ আন্তর্জাতিক জরুরি সংকেত। এর কয়েক মিনিট পর সেটি ৭৫০০ কোড পাঠায়, যা ছিনতাই বা ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’–এর সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে আবার সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য আরও বলছে—জরুরি সংকেত পাঠানোর আগে উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে একপর্যায়ে ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায় এবং পরে আবার দ্রুত নিচে নামতে থাকে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির পর জরুরি সংকেতগুলো পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তবে সংকেতগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ পাঠিয়েছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার ছিল না।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ফ্লাইটটিতে একটি ‘ঘটনা’ ঘটেছিল এবং পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে। সব যাত্রী নিরাপদে আছেন বলেও জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত যাত্রীদের বক্তব্যে আরও গুরুতর পরিস্থিতির বর্ণনা পাওয়া গেছে। এক যাত্রী ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে জানান, তারা উড়োজাহাজে চিৎকার শুনেছিলেন। পরে ককপিট খুললে সেখানে রক্ত দেখতে পান এবং একজন পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরেক যাত্রী বলেন, একজন পাইলট আহত হওয়ার পর উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেছিল।
কয়েকটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এমন দাবিও এসেছে যে, একজন পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং অন্য পাইলট ও কয়েকজন যাত্রী তাকে থামান।
তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। টাইমস অব ইসরায়েল নিজেও এ তথ্যকে অপ্রমাণিত প্রতিবেদন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনার সময় উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান পাঠায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও জরুরি বৈঠক করেন। পরে উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে সেটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনাটি ইসরায়েলের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। উড়োজাহাজটি সৌদি ভূখণ্ডে অবতরণ করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, তাবুকে আটকা পড়া যাত্রীদের তেল আবিবে পৌঁছে দিতে তারা দ্বিতীয় উড়োজাহাজ পাঠাচ্ছে। তবে সেটি কখন তেল আবিবে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, নিশ্চিত তথ্য হাতে এলে তারা আরও বিস্তারিত জানাবে।