গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ইসরায়েল এখনও বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনাটি বাতিল করেননি, শুধু স্থগিত রেখেছেন। মানবাধিকারকর্মীরা এই পরিকল্পনাকে জাতিগত নিধনের শামিল বলে মনে করেন।
বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট আয়োজিত এক সম্মেলনে কাটজ বলেন, গাজার জনসংখ্যা কমানোই ‘একমাত্র সমাধান’।
ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়াকে ‘স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন’ বা ‘স্থানান্তর’ বলে উল্লেখ করেন।
টাইমস অব ইসরায়েলকে কাটজ বলেন, ‘এই অভিবাসন ছাড়া গাজার কোনো বাস্তব সমাধান নেই।’
প্রায় তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা বলে আসছেন, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি কয়েকজন কর্মকর্তা আগেই গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই এই ধারণার পক্ষে কথা বলেন।
ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবে ও ভূখণ্ডটির মালিক হবে।
এই প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ক্ষুব্ধ হয়। এসব দেশের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র।
পরে ট্রাম্পের উদ্যোগে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হয়। এতে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে থাকার অধিকার স্বীকার করা হয়।
১২ দফার ওই চুক্তিতে বলা হয়, ‘কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। যারা যেতে চান, তারা যেতে পারবেন এবং ফিরে আসতেও পারবেন।’
চুক্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা মানুষকে গাজায় থাকতে উৎসাহিত করব এবং উন্নত গাজা গড়ে তোলার সুযোগ দেব।’
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে পুনর্গঠনও ঠেকানো হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
কাটজ বলেন, ইসরায়েল সরকার ‘সমুদ্রপথে, আকাশপথে ও যে কোনো উপায়ে’ গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত।
তবে গাজার সঙ্গে সীমান্ত থাকা মিসর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কাটজ বলেন, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে এমন অন্য দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন। তবে ওয়াশিংটন পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল করেনি।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্প এটি বাতিল করেননি, স্থগিত রেখেছেন।’
কাটজ আরও বলেন, জাতিগত নিধনের পরিকল্পনাটি ‘সব সময়ই আলোচনায় রয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত সবার স্বার্থে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এটি বাস্তবায়নে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন। সেই সময় আসবে।’
গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। গাজায় সংঘটিত নৃশংসতার তদন্ত করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও ইসরায়েল সরকারকে সমর্থন করেছে ওয়াশিংটন।
জুলাইয়ে ট্রাম্প হামাসকে নিরস্ত্র করার একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত ওই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও গাজায় হামলা বন্ধের কথা ছিল।
তবে ইসরায়েল প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না।
কাটজের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, তিনি ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর জেফ মার্কলি গত বছর গাজা-মিসর সীমান্ত পরিদর্শন করেন। তখন তারা সতর্ক করেছিলেন, ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ভ্যান হলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, সেটিই লক্ষ্য। আমাদের এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে।’