Image description
পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। একদিন পর ১৫ আগস্ট স্বাধীন হয় ভারত। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হয়েছে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। তবে পশ্চিমবঙ্গের চার জেলার এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট নয়, পালন করা হয় ১৮ আগস্ট।
 
পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ, নদীয়া জেলা, মালদা জেলার ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল স্বাধীনতার ৮০ বছর পরও ১৮ আগষ্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে। কিন্তু কেন ১৫ আগষ্টের বদলে ১৮ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয় এসব এলাকায়?
 
এর পেছনে রয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং সীমানা নির্ধারণকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিল ইতিহাস।
 
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান তৈরি হওয়ার সময় দুই দেশের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বাউন্ডারি কমিশনের উপর। ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল র‌্যাডক্লিফের নেতৃত্বে তৈরি হয় ভারত-পাকিস্তানের সীমানারেখা। কিন্তু স্বাধীনতার সময় সীমানা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে কয়েকটি এলাকায় তৈরি হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা।
 
জানা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁসহ নদিয়া ও মালদা জেলার বেশ কিছু এলাকা প্রথমে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ১৪ আগস্ট ওইসব এলাকার সরকারি অফিসগুলোতে রীতিমতো পাকিস্তানের পতাকা তুলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। অথচ ওই এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু জনসংখ্যা ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। নিজেদের এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হিসেবে মেনে নিতে চাননি স্থানীয় মানুষ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
 
স্থানীয়দের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তৎকালীন ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছেও পৌঁছায়। এরপর বিতর্কিত সীমানা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়া হয়। র‌্যাডক্লিফের সংশোধিত মানচিত্র ১৭ আগস্ট রাতে প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত সীমানায় নদিয়ার ওই এলাকাগুলো ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
 
সীমানা সংশোধনের পর পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ১৮ আগস্ট ভারতের তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই কারণেই ওই এলাকার মানুষের কাছে ১৮ আগস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব এলাকার মানুষের কাছে দিনটি শুধু স্বাধীনতার স্মৃতি নয়, বরং তাদের এলাকা শেষ পর্যন্ত ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তেরও স্মৃতি।