Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের সমর্থিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ইসরায়েল গ্রহণ করছে না।

তিনি বলেন, হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা কোনো প্রত্যাহার কার্যক্রমে যাবে না। একই সঙ্গে, ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিকদের জন্য হুমকি মোকাবিলা অব্যাহত থাকবে।

নেতানিয়াহু জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ওয়াশিংটনের কিছু প্রস্তাব ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু প্রস্তাব তারা মানবে না।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হামাসের অবস্থান কী

রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টার দেশগুলোর প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। কোনো ধরনের লঙ্ঘন বা চুক্তিভঙ্গ যাতে পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে না দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে হামাস।

 

গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে প্রায় প্রতিদিনই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় প্রাণঘাতী হামলার খবর এসেছে।

গাজায় সেনা প্রত্যাহারে আপত্তি নেতানিয়াহুর

গত ৩০ জুলাই ট্রাম্প গাজা নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির ঘোষণা দেন। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ।

ট্রাম্প একে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত এই সংস্থায় ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশসহ প্রায় ৪০টি দেশ রয়েছে।

তবে এতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। ট্রাম্পকে সংস্থাটির আজীবন চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এই পরিকল্পনার সব শর্ত মেনে চলবেন না।

রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি আরও বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।

হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, শুধু ভারী অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। হালকা অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র সরিয়ে ফেলতে হবে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ বাড়ছে

ওয়াশিংটন থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক প্যাটি কুলহেন বলেছেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ খেলা’ খেলছেন।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমছে। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আরও জোরালোভাবে অবস্থান নিচ্ছে।

ট্রাম্প চাইলে একসময় ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা

হামাস ও ইসরায়েল গত বছরের অক্টোবর থেকে নামমাত্র যুদ্ধবিরতিতে গেলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে

ফলে যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল কতটা মেনে চলবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার খান ইউনিসের আল-নাজ্জার এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত এক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৫৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪ হাজার ১৩৯ জন।

এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭৩ হাজার ৩৮৬। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ জন।

সূত্র: আল-জাজিরা