ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সামরিক হামলা বাতিল এবং আলোচনার আশ্বাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপের শেয়ারবাজার এবং সরকারি বন্ড বাজারে বড় ধরনের চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের একপর্যায়ে এটি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮১ দশমকি ৫৫ ডলারেও নেমেছিল। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৭৯ দশমিক ৪৭ ডলারে দাঁড়ায়।
জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই রুট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং তেলের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
শনিবার (১ আগস্ট) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প জানান, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো যুদ্ধবিরতির স্থায়ী চুক্তির জন্য সময় চেয়েছে। এই চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে। রোববার ট্রাম্প সোমবার থেকে আলোচনা শুরুর কথা জানালেও, তেহরান এই দাবি অস্বীকার করেছে।
এদিকে তেলের আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা শিথিল হলেও যুক্তরাজ্যে খুচরা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সামার ভ্যাকেশনে পরিবারগুলোর ভ্রমণের সময়ে জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি নতুন চাপ তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা আরএসি জানায়, সোমবার পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৬০ দশমিক ৮৫ পেন্সে পৌঁছায়, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। আর ৯ জুনের পর প্রথমবার ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৮০ পেন্স ছাড়িয়ে যায়।
আরএসি-র নীতি নির্ধারক প্রধান সাইমন উইলিয়ামস জানান, জুলাইয়ের পর পেট্রোলের দাম ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এতে জুনের মূল হ্রাস একপ্রকার ভেস্তে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পাম্পগুলোতে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিনিয়োগ সংস্থা এক্সটিবি’র গবেষণা পরিচালক ক্যাথলিন ব্রুকস মনে করেন, তেলের মূল্যহ্রাস মূল্যস্ফীতির ভয় কমাবে। এটি বন্ড বাজারের অস্বাভাবিক মুনাফার ওপর কিছুটা লাগাম টানতে সাহায্য করবে, যা সম্প্রতি গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
আন্তর্জাতিক তেলের দাম কমায় আগস্টের শুরুতে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। প্যান-ইউরোপীয় স্টক্স ৬০০ সূচক শূন্য দশমকি ৫ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খাতের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমলেও ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারগুলোর দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি বন্ডের বাজারে ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে বাজারের এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সন্দিহান অনেক বিশ্লেষক।