পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি দেশটির বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ভারতের সিজেপির মত তার দেশের তরুণ সমাজও গণজাগরণ গড়ে তুলতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ইকোনমিক সামিটে বক্তব্য রাখার সময় নকভি দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং যুক্তি দেন যে, বিদ্যমান ব্যবস্থা আর পাকিস্তানের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে ব্যবস্থার অধীনে বসবাস করছি তা ভেঙে পড়েছে। এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ মহসিন নকভি বলেন, সাধারণ পাকিস্তানিরা কোনো অনুদান চায় না। বরং তারা এমন একটি ন্যায্য ব্যবস্থা চায় যা যোগ্যতার মূল্যায়ন করে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো- আমরা যেন ন্যায়বিচার পাই, যোগ্যতার জয় হয় এবং আমাদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।’
কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে মহসিন নকভি সুশাসন নিশ্চিত করতে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট তৈরি এবং স্থানীয় সরকারগুলোকে আরো বেশি ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ব্যাপক সংস্কার ছাড়া পাকিস্তান আগামী এক দশক পরেও একই বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক করতে থাকবে।
এরপর তিনি পাকিস্তানের হতাশ তরুণ সমাজকে বোঝাতে গিয়ে ভারতের মত ‘তেলাপোকা’র উপমা ব্যবহার করে বলেন, ‘এখন, আপনি সেই তরুণকে যুবক বলুন, তেলাপোকা বলুন বা অন্য যেকোনো কিছুই বলুন না কেন; এই তেলাপোকারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা সবকিছু উল্টে দিতে পারে।’
মহসিন নকভি এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, রাজনৈতিক বিভাজন এবং বেলুচিস্তান, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ও খাইবার পখতুনখোয়ায় সহিংস আন্দোলন চলছে।
গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বাংলাদেশে তরুণ সমাজের আন্দোলনে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আর গত মাসে ভারতে তরুণ সমাজের আন্দোলনে কাঁপন ধরেছিল নরেন্দ্র মোদীর এক যুগের শাসনে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে।
অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নকভি বলেন, পাকিস্তানের সমস্যাগুলো কেবল সামরিক নেতৃত্বের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যতক্ষণ না দেশের ব্যবস্থা ঠিক করছেন, ততক্ষণ ফিল্ড মার্শালের কঠোর পরিশ্রম কোনো উপকারে আসবে না।’ তিনি আরো যোগ করেন, মুনির সবসময়ই গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের প্রচেষ্টার কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হয়তো প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। তবে তিনি যুক্তি দেন যে, গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না করা হলে এই ধরনের প্রচেষ্টা কেবল সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেয়ে বেশি কিছু নয়।
শীর্ষনিউজ