ইরানকে ঘিরে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা। তবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বে দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রেরে সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানা গেছে। ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় একটি দেশে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নিরাপত্তার কারণে সেই দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়েই এ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
চ্যানেল-১২ জানায়, বৈঠকে আমিরাতের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের সমঝোতা ইরানকে উল্লেখযোগ্য কোনো ছাড় না দিয়েই সময়ক্ষেপণ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
চ্যানেল-১২ পশ্চিমা কয়েকজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় ইরানের বিষয়ে আমিরাত এখন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবুধাবির মতে, তেহরানের বর্তমান নীতিমালা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি তৈরি করছে না।
কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় বিলম্ব ঘটানোর ইরানি কৌশলে আমিরাত আস্থা রাখছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আবুধাবি ও তেল আবিবের কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে আরও বেশি মিল তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত জোরদার হয়েছে।