যুক্তরাষ্ট্রের ভোটব্যবস্থায় এখনো দুর্বলতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ওই নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেনি। খবর বিবিসির।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প এসব অভিযোগ করেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় তিন মাস আগে দেওয়া ৩০ মিনিটের এই ভাষণে তিনি বলেন, চীনের নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে তিনি শত শত গোয়েন্দা নথির গোপনীয়তা তুলে দিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ কোটি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। ১৮টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তথ্য চীন কিনেছে, চুরি করেছে অথবা হ্যাক করেছে। তবে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভোটব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে বা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কখনো হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট নেতারা তার সমালোচনা করেছেন। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাররাই তাদের নেতা নির্বাচন করেন, নেতারা ভোটারদের নয়। প্রত্যেক আমেরিকান যাতে বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটরা কাজ করবে।
২০২১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের উদ্দেশে কোনো প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চালায়নি।
ট্রাম্প ভাষণে আরও অভিযোগ করেন, রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং মেশিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামোর কিছু দুর্বলতা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, রাশিয়া ওই নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে হ্যাকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অর্থ সহায়তার অভিযোগ ছিল।
ভাষণে ট্রাম্প মিশিগানের একটি ভোটার নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্ত হলেও এফবিআইয়ের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভোটের ফল পরিবর্তন বা ভোটিং মেশিন হ্যাক করার কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।
এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২ লাখ ৭৮ হাজার অ-নাগরিককে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত শনাক্ত করেছে। তবে এসব ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন কি না বা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলেছেন কি না, তা তিনি জানাননি।
ভাষণ শেষে ট্রাম্প আবারও ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার সময় ছবিযুক্ত পরিচয়পত্রের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা আনার প্রস্তাব রয়েছে।
আইনটি কয়েক মাস ধরে সিনেটে আটকে আছে। ট্রাম্প বলেন, জনগণ যেন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনটি পাসের দাবি জানায়।
তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের উদ্দেশ্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা কমিয়ে দেওয়া।
দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্প চান মানুষ যেন নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারায় এবং ভোট দিতে না যায়।