ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটের গুণগতমান অনেক উন্নত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বাংলাদেশি পাট কেন উন্নত—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, ওখানে পানির স্রোত অনেক বেশি। স্রোতওয়ালা পানিতে যদি পাট পচানো যায়, তাহলে সেই পাটের গুণমান অনেক উন্নত হয়।’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরের সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর জুট অ্যান্ড অ্যালাইড ফাইবারস পরিদর্শনের সময় ভারতের কৃষিমন্ত্রী এই কথা বলেন। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ একই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল আবহাওয়া ভাগ করে নেয়। তবুও কিছু নির্দিষ্ট কারণে বিশ্ববাজারে ভারতের বদলে বাংলাদেশের পাট অনেক উন্নত ও আদর্শ বলে বিবেচিত হয়।
এদিন ব্যারাকপুর পরিদর্শনকালে শিবরাজ সিং চৌহান রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একইসঙ্গে তিনি জমিতে উৎপাদিত পাটের মান খতিয়ে দেখেন। তাছাড়া কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে তিনি তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও শোনেন।
মন্ত্রী পাটের উপযুক্ত দাম না পাওয়া নিয়েও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাটের উপযুক্ত মূল্য কীভাবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে গঙ্গার ধার ধরে ভারতের শত শত জুট মিল কারখানাগুলো সরকারের খাতায় রুগ্ন শিল্প হিসেবে নথিবদ্ধ। যে কয়েকটা কারখানা চলমান রয়েছে সেগুলোও এখন ধুঁকছে, আর বাকিগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময়ে রমরমিয়ে চলা এই শিল্প কারখানা মূলত দেশভাগের খেসারত দিয়েছে। দেশভাগের কারণে উন্নত কাঁচামাল অর্থাৎ ভালো মানের পাট রয়ে গেছে বাংলাদেশে, আর কারখানাগুলো রয়ে গেছে ভারতে।
মূলত ভারতে বাংলাদেশি পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ভারত সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাট বাণিজ্য বেশ কয়েক বছর ধরে বেশ জটিল এবং সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিন বাংলাদেশি পাটের আমদানি স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ভারতের কৃষিমন্ত্রী। তবে তিনি জানান, ভারতীয় পাট মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করলে তার থেকেও ভালো রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব।