Image description

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার (৫ জুলাই) পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, এক বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে শনিবার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে শিশুটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটি বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ৮টার পরও ফিরে না আসায় পরিবার থানায় যোগাযোগ করে। তবে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই বাসিন্দার ভাষ্য, পরদিন স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজনকে শনাক্ত করেন এবং নিজেরাই তাকে ধরে ফেলেন। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি থানায় গিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় বিজেপির স্থানীয় নেতা শান্তনু মণ্ডল অভিযুক্তকে নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আরেক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু মণ্ডল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, তারা নিজেরাই থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজনকে শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শান্তনু মণ্ডলের দাবি, অভিযুক্ত তাকে জানিয়েছে, এ ঘটনায় চারজন জড়িত ছিল এবং শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গ।

ওই ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখ প্রকাশ করে নিজেই দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর সরকার নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখেও পড়ে।

বিক্ষোভে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

গত রোববার শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, সবমিলিয়ে তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুটিকে হত্যার ঘটনায়, একটি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এবং অন্যটি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনায়।

প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। এর আগে করা মামলায় ধর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না।

ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মমতার মোমবাতি মিছিল

ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে মোমবাতি মিছিল বের করেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।

কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া মিছিলে দলের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল শিশুটির জন্য বিচার এবং তার পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড।

মিছিলটি কালীঘাট রোড প্রদক্ষিণ করে মমতার বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সুত্র: বিবিসি, এএনআই, দ্য টেলিগ্রাফ