Image description

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রা শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এই শোকযাত্রা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

রোববার সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ থেকে শোকযাত্রা শুরু হয়। গত দুইদিন ধরে সেখানেই খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ‘শহীদ ইমাম ও নেতার’ শেষযাত্রায় বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ শোকযাত্রা দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হোসেইন স্কয়ার, ইনকিলাব স্ট্রিট, আজাদি স্কয়ার হয়ে মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে শহীদ লাশগারি মহাসড়ক পর্যন্ত যাবে। এরপর খামেনির মরদেহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য শিয়া মতাবলম্বীদের পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে।

শোকযাত্রায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘হত্যার’ আহ্বানসংবলিত ব্যানার বহন করতে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স

এদিকে শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার ও লাল পতাকা দেখা গেছে। কয়েকটি ব্যানারে ‘কিল ট্রাম্প’ লেখা ছিল। আবার অনেকের হাতে ‘মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। যেখানে লেখা ছিল, ‘রক্তের হিসাব হবে’।

Khameni 3

অনুষ্ঠানজুড়ে শিয়া মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী লাল পতাকা দেখা যায়। এসব পতাকায় ‘ইয়া লাসারাত আল-হুসাইন’ (হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ) এবং ‘ইয়া লাসারাত আল-খামেনি’ (খামেনির রক্তের প্রতিশোধ) লেখা ছিল। কারবালার ঘটনার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত এই স্লোগান শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও প্রেস টিভির দাবি, শোকযাত্রায় কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিয়েছেন। তেহরানের কর্মকর্তারা এটিকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজার দিনই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এক আদেশে গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইকে পুনরায় প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আদেশে তাঁর আগের দায়িত্ব পালনের ‘মূল্যবান ও আন্তরিক প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আলী খামেনি।