ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বাই ও তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ভারী বৃষ্টির পর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) রোববার (৫ জুলাই) মুম্বাইতে রেড অ্যালার্ট জারি রেখেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সকালের দিকে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমেছে। তবে আগামী কয়েক ঘণ্টা অবিরাম বর্ষণের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহনমুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশন (বিএমসি) সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের আবহাওয়া পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কিছু জায়গায় তা ৩০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। গণপরিবহন যেমন মেট্রো এবং বেস্ট বাস সেবা সকাল থেকে মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও, লোকাল ট্রেনগুলো বেশ বিলম্বে চলাচল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিএমসি যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের হেল্পলাইন নম্বর ১৯১৬-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছে।
উপকূলীয় ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারণ, রোববার বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে সমুদ্র উপকূলে ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ার আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সোমবার (৬ জুলাই) ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে আরও একটি ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জোয়ারের কারণে নিচু এলাকাগুলো আরও বেশি জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
শনিবার (৪ জুলাই) মাত্র ১২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় মুম্বাই। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ভেঙে যায় এবং বেশকিছু জায়গায় রাস্তা ধসের ঘটনা ঘটে। যার ফলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে মুম্বাইয়ের প্রতিবেশী থানে, পালঘর, নভি মুম্বাই এবং পুনে অঞ্চলেও। পুনেতে বেশ কয়েকটি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টির পাশাপাশি শহর ও শহরতলির ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বিএমসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভিক্রোলি ওয়েস্টের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিসে সর্বোচ্চ ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিমি এবং ভিক্রোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপাল স্কুলে ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মালাবার হিল, আন্ধেরি, পাওয়াই, ভান্ডুপ এবং গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ শহরের প্রধান প্রধান এলাকাগুলো এখন পানির নিচে।