Image description

প্রয়াত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনেও স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে চলেছে ইরান। খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা দেশগুলোর জন্য কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত বাজিয়ে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর প্রতি তারা নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে।

শোকাহত রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে নিজেদের বিজয়ীর বেশে তুলে ধরেছে তেহরান। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ‘শত্রু ভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের জন্য বিশেষ আয়াত তিলাওয়াত করেছে তারা।

 

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফন আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতা ও কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও সৌদি আরবকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিমন্ত্রণপত্র পাঠায়নি ইরান। তবুও সৌদি আরব নিজ উদ্যোগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়।

তারা যখন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে যখন সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এগিয়ে যায়, তখন তাদের সামনে তিলাওয়াত করা হয়- সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। এই আয়াতে বদর যুদ্ধের বর্ণনা রয়েছে।

আয়াতে উল্লেখিত আছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য দুটি দলের মোকাবিলায় একটি নিদর্শন ছিল। এক দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল, আর অন্য দল ছিল অবিশ্বাসী। তারা চোখে দেখছিল যে, মুসলিমরা তাদের দ্বিগুণ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্যে শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’

অনেকের মতে, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের প্রতীকী ইঙ্গিত।

খামেনির জানাজায় সৌদি প্রতিনিধিদল। ছবি: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

খ্রিস্টীয় ৬২৪ সালে বর্তমান সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আবার সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সখ্যতাও ইরানের সঙ্গে বৈরিতার অন্যতম কারণ। সৌদি আরবের ভূমিতেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে- এই আয়াত কি সৌদি আরবের প্রতি প্রশংসাসূচক বার্তা ছিল, নাকি বিদ্রূপ, নাকি দুটোরই সমন্বয়? তবে এটি যে খুব ভেবে-চিন্তে নির্বাচন করা হয়েছে, সে বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়াত ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকের অন্যতম যুদ্ধ বিজয়ের স্মৃতি এবং তেহরান ও রিয়াদের অভিন্ন ইসলামী সভ্যতার ঐতিহাসিক স্মৃতিকেই বহন করে।

তবে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির ভিন্ন অর্থও রয়েছে। ইরান কেবল যুদ্ধে টিকেই যায়নি, অনেকের মতে আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও এখন বাস্তবতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবের নীরব ভূমিকা তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহঅবস্থান নেওয়ার বার্তা দেয় বলে মনে করছেন অনেকে। কিছু প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, তারা গোপনে ইরানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছিল।

কেবল সৌদি আরবই নয়, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছে ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল।

আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নেন বিশ্বের অনেক ধর্মীয় নেতা। ছবি: এপি/ইউএনবি

এই দীর্ঘ অতিথি তালিকা ইরানের জন্য নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে তেহরান বোঝাতে চেয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতটা ইরানকে বিচ্ছিন্ন দেখাতে চায়, বাস্তবে দেশটি ততটা একঘরে নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্য তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি। তার নিজ কার্যালয় ও বাসভবনে বিমান হামলায় তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। সেইসঙ্গে নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনির দীর্ঘদিনের শীর্ষ সঙ্গীরা।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাতে তেহরান যে দিন বেছে নিয়েছে তার পেছনেও কূটনৈতিক বার্তা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সময় শুক্রবার খামেনির মরদেহে ইরানিরা শ্রদ্ধা জানানো শুরু করলেও বিশ্বনেতাদের জন্য তার কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শনিবার (৪ জুলাই। এদিনই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়।

অর্থাৎ খামেনির জানাজা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকেও নীরব বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তিন দিন ধরে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে খামেনির মরদেহ। এটি ইরানের সবচেয়ে বড় নামাজের প্রাঙ্গণ এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের অন্যতম প্রধান স্থান।

এর মাধ্যমে ইরান নিজেদের জনগণকে দেখাতে চেয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়েও রাষ্ট্র এখনো বিজয় ও শোক- দুই পরিস্থিতিতেই জাতিকে একত্রিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে ইরান তার মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে- তেহরান ভেঙে পড়েনি, বড় শক্তিগুলোকে জানাতে চেয়েছে যে দেশটি পরাজিত হয়নি এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, কে কী ভূমিকা নিয়েছে- তা ইরান মনে রেখেছে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা আছে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন। ছবি: এপি/ইউএনবি

বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোর সামনে পাঠ করা কোরআনের আয়াতগুলোকেও প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব আয়াতের মাধ্যমে তেহরানের দৃষ্টিতে কোন দেশ কোথায় অবস্থান করছে, তাও স্পষ্ট করেছে।

হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন, ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোর মূল বিষয় ছিল- শাহাদাত, আল্লাহর সঙ্গে অটুট অঙ্গীকার এবং বিজয়।

হামাসের সামনে তিলাওয়াত করা হয় সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে- ‘মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্যভাবে পূরণ করেছে। তাদের কেউ কেউ (শাহাদাতের মাধ্যমে) তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, আবার কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। আর তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি।’

হিজবুল্লাহর জন্য পাঠ করা সূরা আলে ইমরানের ১৩৯ ও ১৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়, ‘প্রকৃত মুমিনরাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে। তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী (বা উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী)।’

‘আমি এ ধরনের দিন মানুষের মধ্যে পালাক্রমে পরিবর্তন করি, যাতে আল্লাহ প্রকৃত মুমিনদের প্রকাশ করেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদ নির্বাচন করেন।’

ইয়েমেনের হুথিদের জন্য পাঠ করা হয় সূরা আল-ফাতহর ২৯ নম্বর আয়াত। এতে আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং চাপের মুখেও নিজেদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বলা হয়েছে।

আয়াতে বলা হয়, ‘মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। আর যারা তাঁর সঙ্গে আছেন, তারা অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি দয়ালু। তুমি তাদের রুকু ও সিজদায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাব থেকে প্রকাশ পায়। তাওরাতে তাদের উপমা এমনই। আর ইনজিলে তাদের উপমা একটি শস্যবীজের মতো, যা অঙ্কুর বের করে, পরে তাকে শক্তিশালী করে, তারপর তা মোটা হয় এবং নিজের কাণ্ডের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। এতে চাষিরা আনন্দিত হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের অন্তরে ক্রোধ সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহান প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং ইরাকের জন্য পাঠ করা সূরা আলে ইমরানের ১৬৯ আয়াতে বলা হয়, ‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত এবং তারা রিজিকপ্রাপ্ত।’

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং আফিগানিস্তানের তালেবানের জন্য একইভাবে সূরা আল-ফাতহর সূচনা অংশ পাঠ করা হয়, যেখানে স্পষ্ট বিজয়ের কথা বলা হয়েছে।

‘নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যাতে আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটি ক্ষমা করেন, তোমার ওপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন এবং তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।যার মাধ্যমে অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটি ক্ষমা করা হয় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ পূর্ণতা লাভ করে।’

দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য একই আয়াত নির্বাচন করা ইঙ্গিত দেয়, তেহরানের আদর্শিক দৃষ্টিতে তাদের অবস্থান একই স্তরে। একই সঙ্গে তালেবান যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সফল হয়েছে এবং ইরানও নিজেদের বিজয় দাবি করছে, তেমনি ফিলিস্তিনিরাও একদিন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে পারবে- এমন বার্তাও দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয় খামেনির মরদেহ। ছবি: এপি/ইউএনবি

রাশিয়া, চীন, ভারত এবং মিসরের জন্য তিলাওয়াত করা আয়াতগুলোর সুর ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত। এসব আয়াতে যুদ্ধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বস্তকরণ এবং প্রতিদানের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

রাশিয়ার জন্য পাঠ করায় সূরা আল-কাসাসের ৮৩ নম্বর আয়াত। এতে বলা হয়, ‘এটাই পরকালের আবাস। আমি তা তাদের জন্য নির্ধারণ করি, যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য বা আধিপত্য কামনা করে না এবং বিপর্যয় বা অনাচার সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’

চীনের জন্য নির্বাচিত আয়াতের ভাষা ছিল আরও কোমল। সূরা আলে ইমরান ১২৬ আয়াতে বলা হয়, ‘আল্লাহ এটিকে শুধু সুসংবাদ এবং তোমাদের অন্তরের প্রশান্তির জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর বিজয় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।’

ভারতের জন্য তিলাওয়াত করা হয় হিজবুল্লাহর জন্য তিলাওয়াত করা একই আয়াত। যেখানে বলা হয়, ‘তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখ করো না।’ তবে ভারতের ক্ষেত্রে শহীদ বা অবিশ্বাসীদের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে কেবল আশ্বস্তকারী অংশটি পাঠ করা হয়।

মিসরের জন্য তিলাওয়াত করা হয় সূরা আল-বাইয়্যিনাহর আয়াত, যেখানে বলা হয়, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের কাছে চিরস্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটি তার জন্য, যে তার প্রতিপালককে ভয় করে।’

কাতার, তুরস্কের মতো যুদ্ধে অংশ না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর জন্যও কৃতজ্ঞতাসূচক আয়াত তিলাওয়াত করে ইরান।

এই দেশগুলোর জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলো অনেকটা অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মতো, যাদের ইরান কাছে রাখতে চায়।

যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের জন্য পাঠ করা হয় কোরআনের এক বিশেষ দোয়া। যেখানে বলা হয়, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সম্মানের সঙ্গে প্রবেশ করান এবং সম্মানের সঙ্গে বের করে আনুন।’

যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসলামাবাদ, দোহার সঙ্গে মিলিত হয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা চালায়।

এই দেশগুলো বাণিজ্য, মধ্যস্থতা বা আঞ্চলিক রাজনীতির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে, কিন্তু নিজেদেরকে সশস্ত্র আদর্শিক প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না।

সৌদি আরবের মতো লেবাননের সরকারের প্রতিও একটি পরোক্ষ ভর্ৎসনার ইঙ্গিত দেখা যায়। বিশেষ করে যখন হিজবুল্লাহর জন্য প্রশংসাসূচক আয়াত বাজানো হয়, তখন লেবানন সরকারের যুক্তরাষ্ট্রপ্রীতিকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছে না তেহরান।

লেবাননের জন্য ইরান সূরা আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত পাঠ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যদি তাদের নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে বা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ তা মানত না। আর যদি তারা তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তা অনুসরণ করত, তবে সেটিই তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর এবং অধিক স্থিতিশীলতার কারণ হতো।’

সমালোচকদের অভিযোগ, লেবাননের সরকার ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলারও সমালোচনা করেছে।

 

সূত্র: দ্য মিডেল ইস্ট আই