ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর এনডিটিভির।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই থেকে কয়েক দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান চলবে। এর অংশ হিসেবে ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র নগরী কোমে বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হবে ও ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান, উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। সাধারণত ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মৃত্যুর পরপরই দ্রুত দাফনের নিয়ম থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই দীর্ঘ সময় নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই তার দাফনের সময়সূচি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে ইরান সরকার এই চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করল। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান, মাশহাদ ও কোমে অনুষ্ঠেয় এই শোক অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বিশ্বের বিপুলসংখ্যক বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে তা ১৯৮৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যের ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) মানুষের উপস্থিতির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ খামেনির ৫৬ বছর বয়সী ছেলে মোজতবা হোসাইনি খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ধোঁয়াশা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এই শীর্ষ নেতা বর্তমানে কোমায় (অচেতন অবস্থায়) রয়েছেন।
কয়েক মাসের যুদ্ধাবস্থা শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে একটি ডিজিটাল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত শান্তি আলোচনা চলছে।