ইতালিতে ভারত ও ভারতীয়দের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি ওয়েটারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন একদল ভারতীয় নারী পর্যটক। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার ২৪ জুন এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ভাইরাল ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে ‘হোয়াট হ্যাপেনড টু আস ইন ইতালি’ শিরোনামে প্রকাশ করেন ভারতীয় পর্যটক খুশি দুবে। ভিডিওতে দেখা যায়, হোসেন নামের এক ওয়েটার ভারত ও ভারতীয়দের নিয়ে অশালীন ও অপমানজনক মন্তব্য করছেন। কথোপকথনের সময় তিনি একাধিকবার অশ্লীল ভাষাও ব্যবহার করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কী কারণে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, বাইরে বসে থাকা ভারতীয় নারী পর্যটকদের উদ্দেশ করে ওই ওয়েটার বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন এবং তাদের ‘ভারত থেকে আসা’ বলে কটাক্ষ করেন।
এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাকবিনিময়ের সময় এক নারী পর্যটক তাকে ভাষা সংযত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা সবার আগে নারী, আমাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করুন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অভিযোগ ওঠে, ওয়েটারটি তাদের জাতীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন। এর জবাবে পর্যটকদের একজন তাকে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে ঘটনাস্থলে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ওয়েটার হোসেন ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে ভারতীয় পর্যটকরা তাকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে বলেন যে তিনি ভারতকে অপমান করেছেন এবং সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন। ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, দয়া করে বলুন, ভারতকে অপমান করার জন্য আমি দুঃখিত।
খুশি দুবে পরে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বিদেশে বিভিন্ন ঘটনার জন্য অনেক সময় ভারতীয়দের অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়। তিনি লেখেন, সবসময় ভারতীয়রাই দোষী নয়, কখনও কখনও আমাদের সঙ্গেও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। নিজের দেশের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকুন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ওয়েটারের আচরণের সমালোচনা করে ভারতীয় নারীদের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ ওই ওয়েটারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরেরও আহ্বান জানান। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা উচিত ছিল। এমন আচরণের শাস্তি হওয়া দরকার। আরেকজন লেখেন, যেভাবে আপনারা তাকে ভারতের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন, তা প্রশংসনীয়। আপনাদের সাহসকে স্যালুট।
তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অসম্মানজনক আচরণের শিকার হওয়ার পরও কেন ওই রেস্তোরাঁয় অবস্থান করা হয়েছিল। তাদের মতে, এমন প্রতিষ্ঠানে অর্থ ব্যয় না করাই উচিত।