Image description

বিমার টাকা হাতিয়ে নিতে মানুষ কত কিছুই না করে! কিন্তু ব্রাজিলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লার্ক যা করলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য ও ভয়ানক। প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা (১৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল) বিমার অর্থ পেতে এই ব্যক্তি নিজের পা নিজেই কেটে ফেলেন। ২০১৯ সালের এই অদ্ভুত বিমা জালিয়াতির ঘটনায় সম্প্রতি ওই ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভ্যান্ডারলি দোস সান্তোস গোমেস নামের ওই ব্যক্তি ব্রাজিলের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব রিকনকাভো দা বাহিয়া-তে প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। স্বল্প আয়ের কারণে দ্রুত বিপুল অর্থ উপার্জনের একটি ষড়যন্ত্র করেন তিনি। ২০১৯ সালের জুন ও জুলাই মাসের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি বড় অঙ্কের বিমা পলিসি কেনেন, যার শর্ত ছিল স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা পাবেন। পলিসি নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই রাস্তার পাশে তাকে পা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের কাছে গোমেস দাবি করেন, একদল গ্যাংস্টার তাকে অপহরণ করে সব লুট করে নেয় এবং একটি রামদা দিয়ে তার পা কেটে ফেলে।

পরবর্তী সময়ে একটি ব্যাকপ্যাক থেকে তার কাটা পা এবং যেসব জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন, সেগুলো উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েই গোমেস দ্রুত বিমার টাকা দাবি করে আবেদন জমা দেন। ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে এবং হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই তিনি এই দাবি জানান।

পলিসি নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনাটি ঘটা এবং পা হারানোর মতো মারাত্মক পরিস্থিতিতেও হাসপাতালে বসেই দ্রুত বিমার দাবি করায় কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। বিমা কর্মকর্তারা গোমেসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি জালিয়াতির কথা অস্বীকার করেন। এমনকি তার আইনজীবীরাও দাবি করেন যে এটি যে একটি সাজানো নাটক, তার কোনও প্রমাণ নেই।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কারণে। তারা পরীক্ষা করে জানান, গোমেসের পায়ের কাটা অংশটি এতটাই নিখুঁত ও পরিষ্কার ছিল যে তা কোনোভাবেই রামদার কোপে হওয়া সম্ভব নয়। বরং এটি কোনও বিশেষ শল্যচিকিৎসা বা সার্জিক্যাল পদ্ধতিতে কাটা হয়েছে। আদালতের নথিতে দেখা যায়, জালিয়াতির অপরাধে গোমেসকে প্রথমে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে ৭২০ ঘণ্টার কমিউনিটি সেবা এবং ৭ হাজার ৬০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল জরিমানা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার আপিল আবেদন আদালত খারিজ করে দেওয়ায় গত মে মাস থেকে তিনি তার সাজা ভোগ করা শুরু করেছেন।

 

সূত্র: উইয়ন নিউজ