নিজ সন্তানের হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র ১৫ ঘণ্টা আগে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়ে মানবিকতার বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছেন সৌদি আরবের নাগরিক শেখ ইয়াহিয়া বিন কানস আল-বুশরি। কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা ‘ব্লাড মানি’ গ্রহণ না করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম বন্দর এবং অভিযুক্ত ঘাতকের নাম ইয়াসের। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইয়াসেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় নিহতের বাবা শেখ ইয়াহিয়া ঘোষণা দেন, তিনি শুধুমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, একসময় আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল ছিলেন শেখ ইয়াহিয়া। তবে বর্তমানে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করছেন। তবুও ঘাতকের পরিবার থেকে প্রস্তাবিত বিপুল পরিমাণ রক্তপণ গ্রহণে রাজি হননি তিনি। বরং কোনো শর্ত ছাড়াই প্রাণভিক্ষা দিয়ে ক্ষমার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ক্ষমার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তিনি নিজেই ইয়াসেরের মায়ের বাড়িতে যান। সেখানে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছেলের প্রাণ রক্ষা পাওয়ার খবর শুনে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত মা শেখ ইয়াহিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে গেলে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাকে থামিয়ে দেন। পরে ওই মায়ের কপালে চুম্বন করে তাকে সান্ত্বনা দেন।
এ সময় খবর পেয়ে ইয়াসেরের ভাইয়েরাও সেখানে উপস্থিত হন। তারা আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়লে শেখ ইয়াহিয়া তাদের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন। নিজের সন্তান হারানোর গভীর শোক বুকে নিয়েও অন্য একটি পরিবারকে নতুন জীবন উপহার দেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনেকেই এই ঘটনাকে ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক অসাধারণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। আবেগঘন সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শেখ ইয়াহিয়ার মহানুভবতার প্রশংসা করছেন।
শীর্ষনিউজ