Image description

পোল্যান্ডে রাশিয়ান এক শিল্পীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিল্পীর নাম রবার্ট কে।

তবে তিনি ‘সেমিওন স্ক্রেপেতস্কি’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন কট্টর সমালোচক ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে বেলারুশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিআলা পোদলাসকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পোলিশ প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী এই শিল্পীকে একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

ঘটনাস্থলটি বেলারুশ কনস্যুলেট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে।

 

জেলা প্রসিকিউটর কার্যালয়ের মুখপাত্র মারচিন কোজাক বিবিসিকে জানান, এক অজ্ঞাত বন্দুকধারী শিল্পীর কাছে গিয়ে প্রথমে দুটি গুলি করে। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারী আরো কাছে গিয়ে তিনটি গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

কোজাক আরো বলেন, ‘মোট পাঁচটি গুলি তার মাথা, বুকে ও পিঠে লাগে।

ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

 

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং একটি ৯ মিলিমিটার গেকো লুগার বুলেট উদ্ধার করেছে। বুধবার তার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঘটনার পর বেলারুশ কনস্যুলেটের কাছ থেকে ৩৩ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই বেলারুশীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

 

ব্যঙ্গচিত্র ও সমালোচনা

রবার্ট কুজভকভ ‘সেমিওন স্ক্রেপেতস্কি’ নামে শিল্পচর্চা করতেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং চেচেন নেতা রমজান কাদিরভকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও চিত্রকর্মের জন্য পরিচিত ছিলেন।

প্রসিকিউটর কোজাক বলেন, ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে শিল্পচর্চা করতেন এবং ‘সেমিওন স্ক্রেপেতস্কি’ ছদ্মনামে রুশ সরকারের বর্তমান নীতির সমালোচনা করতেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সালে বিআলা পোদলাসকায় বসবাস শুরু করেন।

পুতিনবিরোধী বিক্ষোভ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গত ১২ জুন জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত ‘রাশিয়া ডে’ বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন স্ক্রেপেতস্কি।

সেখানে তার হাতে ছিল পুতিন ও সাবেক সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিনকে ব্যঙ্গ করে আঁকা একটি চিত্রকর্ম। এ ছাড়া তার ট্রাউজারের সঙ্গে বাঁধা একটি রুশ পতাকাও মাটিতে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়, যা ছিল প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।