Image description

গুঞ্জন সত্যি করে দল ছেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ জন বিদ্রোহী সাংসদ। দলত্যাগ বিরোধী আইন ও সংসদীয় জটিলতা এড়াতে ত্রিপুরার অপরিচিত রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন তারা। রোববার বিকেলে নয়া দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক শেষে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেন তারা। 

এখন থেকে সংসদে তারা এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে পরিচিত হবেন এবং এনডিএ জোটের অংশ হয়ে কাজ করবেন। খাতা-কলমে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও সংসদে আলাদা ব্লক গঠনের আইনি জটিলতা এড়াতে তারা ৪ বছরের পুরোনো ত্রিপুরার এই আঞ্চলিক দলে যোগ দেন। মোট ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ২২ জন (দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা) একযোগে দল ছাড়ায় তাদের ওপর ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ (অ্যান্টি ডিফেকশন ল’) কার্যকর হওয়ার কোনো আইনি সম্ভাবনা নেই। 

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যাওয়ার আগে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবনে গিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষসহ ওই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বিজেপির প্রভাবশালী সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই এনসিপিআই বিকল্প হিসেবে চূড়ান্ত হয়।

বিদ্রোহীদের আলাদা ব্লকের স্বীকৃতি ঠেকাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি নিয়ে স্পিকারের কাছে যান তৃণমূলের প্রতি অনুগত সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ। চিঠিতে একক দল হিসেবে এআইটিসি-কে গণ্য করতে এবং কোনো পৃথক উপদলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

বিদ্রোহী দলের নেতা কাকলি ঘোষ দস্তিদার এনসিপিআই-এর সঙ্গে সংযুক্তিকরণের বিষয়টি সমর্থন করে জানিয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র অংশ হয়ে কাজ করবেন। নতুন এই দলটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরায় কাজ করবে।