ব্রাজিলের লিমেইরা শহরে বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সময় নিরাপত্তার দড়ি না বেঁধেই ঝাপ দেওয়ার পর ২১ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সকালে রোমাঞ্চকর খেলার জন্য পরিচিত পন্তে দো এসকেলেতো এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত তরুণীর নাম মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেস দে ফ্রেইতাস। সাও পাওলোর জান্দিরা এলাকার বাসিন্দা মারিয়া সম্প্রতি শারীরিক শিক্ষা ও স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
সামরিক পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লাফ দেওয়ার আগে তার শরীরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সঠিকভাবে সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে নিরাপত্তা দড়ি ছাড়াই তিনি নিচে পড়ে যান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। পরে জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মারিয়া ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। রসিকতার ছলে তিনি লিখেছিলেন, ‘কোন পাগল আমাকে সেতু থেকে লাফ দেওয়ার অনুমতি দিল?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত দৈনন্দিন জীবন, শরীরচর্চা, প্রকৃতি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করতেন।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাঞ্জি জাম্পিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা মারিয়াকে প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাচ্ছেন। লাফ দেওয়ার পরপরই উপস্থিত ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন যে নিরাপত্তা দড়ি বাঁধা হয়নি। তখন তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আরে ভাই, দড়িটা তো বাঁধা হয়নি!’
সামরিক পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দুই কর্মী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া