Image description

হজ পালন শেষে নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ উপাধি ব্যবহার করা নিয়ে সমাজে প্রচলিত একটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, ইসলামে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কোনো সামাজিক উপাধি বা পরিচিতি নয়।

ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের একটি হিসেবে হজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। হজ মানুষকে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। তবে হজ পালনকারীকে নামের আগে বিশেষ উপাধি ব্যবহার করতে ইসলামে বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নেই।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘হাজি’ শব্দের অর্থ হজ পালনকারী ব্যক্তি এবং ‘আলহাজ’ শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। কিন্তু আরবি ভাষা বা ইসলামী পরিভাষায় একাধিক হজের ভিত্তিতে আলাদা উপাধি ব্যবহারের কোনো প্রমাণ নেই।

আলেমরা আরও বলেন, সব ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। কেউ যদি উপাধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হজ পালন করেন বা হজের পর মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাশা করেন, তবে তা ইবাদতের আন্তরিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ইসলামী দৃষ্টিতে আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজেকে পবিত্র বা বিশেষ মর্যাদার দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন না করাই উত্তম।

সাহাবায়ে কেরামের জীবনে হজ পালন থাকলেও তাঁদের নামের আগে কোনো ধরনের উপাধি ব্যবহারের প্রচলন ছিল না বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

তবে আলেমরা এটিও উল্লেখ করেন, সম্মান বা পরিচয়ের অংশ হিসেবে কেউ কাউকে ‘হাজি সাহেব’ বলে ডাকলে তা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু এটিকে স্থায়ী উপাধি হিসেবে গ্রহণ করা বা না ডাকলে অসন্তুষ্ট হওয়া অনুচিত।

সবশেষে বলা হয়েছে, হজের প্রকৃত সফলতা কোনো উপাধিতে নয়, বরং তাকওয়া, বিনয় এবং আল্লাহর আনুগত্যে পরিবর্তনের মধ্যেই নিহিত।

শীর্ষনিউজ