Image description

দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট এবং শিক্ষাজীবনের নানা বাধা অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ঘানার তিন নারী। ফ্রান্সিসকা আরহিনফুল, মেনসাহ ও ইসাহর এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে শিক্ষা সহায়তা সংস্থা ক্যামফেড।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্যামফেড কেমব্রিজ ও জিম্বাবুয়েতে প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা সহায়তা সংস্থা। সংস্থাটি জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মালাউই, কেনিয়া ও ঘানায় মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে কাজ করছে।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে মাত্র ছয়জন মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। আর সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশেরও কম।

ঘানার মধ্যাঞ্চলের আজুমাকো এলাকায় বেড়ে ওঠা ২৫ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকা আরহিনফুল আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন। পরে পরিবারের এক খালা তার শিক্ষার ব্যয় বহন করলে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ক্যামফেডের বৃত্তি পেয়ে তিনি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

আরহিনফুল বলেন, ক্যামফেডের সহায়তা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং জীবনের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছে।

অন্যদিকে বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী মেনসাহ মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল তার মায়ের ক্যাটারিং ব্যবসা। সংসারের দায়িত্বে সহযোগিতা করতে গিয়ে তাকে লেখাপড়া বন্ধ করতে হয়েছিল।

তবে পড়াশোনার স্বপ্ন ছাড়েননি মেনসাহ। পরে বাড়ির কাছাকাছি একটি বিনামূল্যের উচ্চবিদ্যালয় চালু হলে তিনি আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরে আসার সুযোগ পান।

পরবর্তীতে মেনসাহ, আরহিনফুল ও ইসাহ—তিনজনই ক্যামফেডের সহায়তায় ঘানার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থায়ন পান। এরপর সংস্থাটি তাদের মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশনের স্কলার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হতে সহায়তা করে।

এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা হয়। ফলে কঠিন সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পান তারা।

বর্তমানে এই তিন নারী নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মেয়েদের সহায়তায় কাজ করছেন। তারা ক্যামফেডের ‘লার্নার গাইড’ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সহপাঠী পরামর্শক হিসেবে ছেলে-মেয়েদের জীবনদক্ষতা, নেতৃত্ব ও মানসিক সুস্থতা বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছেন।

তাদের লক্ষ্য, আর্থিক ও সামাজিক বাধার কারণে যেন কোনো মেয়ে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায়।

শীর্ষনিউজ