ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশপাশি শেয়ার বাজারও চাপের মধ্যে রয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের বেশি পৌঁছেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেই রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার হামলা-পাল্টা হামলার সময় এই দাম ১২০ ডলারের উঠেছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে হামলার জবাবে এই প্রথম ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষোপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি ব্যারেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।
এদিকে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দেশটির একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চালানো এই হামলাটি ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের।
নাটকীয় বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলা পেছানোর কূটনৈতিক তোড়জোড় চলার মাঝে এই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এর ঠিক কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প বার্তা দিয়েছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে আপাতত কোনো ধরনের পাল্টা হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের কূটনৈতিক পরিকল্পনা না মেনে ইরানে এ বিমান হামলা চালিয়ে বসেছেন নেতানিয়াহু।