আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতার কারণে বাজারে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় স্বর্ণ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৩৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
ডলারের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এখনও অনেকটাই তেলের দাম ও ডলারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তেল ও ডলারের দাম কমলেই স্বর্ণের দাম বাড়ছে।’
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, ‘স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী ধারা শেষ হয়নি। তবে বাজারে এখন একটি স্বাভাবিক সমন্বয় বা ‘শেকআউট’-এর সময় এসেছে। তাই বছরের শেষভাগ পর্যন্ত লেনদেনে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে এবং দাম প্রায় ৫ হাজার ডলারের দিকে যেতে পারে।’
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ২৬ ডলারে পৌঁছেছে। আর প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৭৯ দশমিক ৭৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
শীর্ষনিউজ