ভারতে রাস্তায় নামাজ আদায় নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, যদি রাস্তায় নামাজ পড়াকে ভুল বলা হয়, তাহলে একই নীতি সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, রাস্তায় নামাজ নিয়ে আপত্তি তোলা হলেও অন্যান্য ধর্মের শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় সমাবেশ নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তোলা হয় না। এটিকে তিনি ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা মনে রাখুন। যদি রাস্তায় নামাজ পড়া ভুল হয়, তাহলে সব ধর্মের উৎসবও রাস্তায় আয়োজন করা ভুল। যদি কারো উৎসব উপলক্ষে মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়, তাহলে রমজান মাসে ৩০ দিনের জন্য মদের দোকানও বন্ধ রাখতে হবে।
ওয়াইসি অভিযোগ করেন, মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘিরেই বারবার বিতর্ক তৈরি করা হয়। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য নিয়ে কারো আপত্তি নেই, কিন্তু আজান ও নামাজ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। একই সঙ্গে তিনি হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের সময় ডিম, মাংস ও মুরগি বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের বিদ্বেষ শুধু মুসলমানদের প্রতি। এই বিদ্বেষ থেকেই তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এআইএমআইএম সভাপতি দাবি করেন, ‘রমজান বা বকরিদসহ (ঈদুল আজহা) বড় মুসলিম উৎসবের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে আজান ও নামাজের বিষয়গুলো বিতর্কিত করা হয়। আজান নিয়ে সমস্যা, নামাজ নিয়ে সমস্যা, আসলে আপনাদের কী হয়েছে?’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ওয়াইসির এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারতে জনসমাগম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া রোধে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসন নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, জনদুর্ভোগ এড়াতে নামাজ সুশৃঙ্খলভাবে আদায় করতে হবে এবং প্রয়োজনে একাধিক ধাপে তা আয়োজন করা যেতে পারে। তিনি জানান, প্রশাসন প্রথমে বোঝানোর মাধ্যমে নিয়ম মানতে উৎসাহিত করবে, এরপর প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাত কলকাতার রেড রোডে আয়োজনের অনুমতি না দিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় সমাবেশ সড়কে ছড়িয়ে না পড়ে।
সমালোচনা অব্যাহত রেখে ওয়াইসি বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় যাত্রা ও শোভাযাত্রার সময়ও নিয়মিতভাবে সড়ক ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে একই ধরনের আপত্তি দেখা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, সড়কে নামাজ আদায় প্রতিদিনের ঘটনা নয়; মূলত জুমার নামাজ বা ঈদের জামাতের সময়ই এমনটি ঘটে।
তার ভাষায়, ভারতে সব ধর্মের উৎসবই কোনো না কোনোভাবে সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেগুলো আপনারা দেখেন না; শুধু নামাজের বিষয়টিই চোখে পড়ে!
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া