Image description

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “ইরানকে অবশ্যই সম্মত হতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। পাশাপাশি অবাধে নৌযান চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। জলপথটিতে থাকা মাইন ধ্বংস করতে হবে।” খবর বিবিসির

নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছি, যাতে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।”

এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, দুই দেশ একটি চুক্তির কাঠামো বা সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়েছে, যা ট্রাম্প এবং ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত এবং সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো বাড়ি ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া ও ধ্বংস করার অনুমতি দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।”

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলতে হবে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিপরীতে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।

সূত্রের বরাতে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ছিল ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’। সংস্থাটি আরও জানায়, দুই পক্ষের সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার কোনও শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচকরা এখনও কিছু ভাষাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্ন। তিনি বলেন, “আমরা এখনও সেখানে পৌঁছায়নি, তবে খুব কাছাকাছি আছি এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাবো।”

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি।