Image description

গাজায় মানবিক সহায়তা মিশনে অংশ নেওয়া মালয়েশিয়ান কর্মীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর হামলা, আটক ও জাহাজ আটকের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে মালয়েশিয়া। রোববার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) দেশে ফেরা মালয়েশিয়ান কর্মীদের স্বাগত জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সেলাঙ্গরের মুখ্যমন্ত্রী (মেন্ত্রি বেসার) এবং মিশনের পৃষ্ঠপোষক মন্ত্রী আমিরুদ্দিন শারি।

 

মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টার জানিয়েছে, আমিরুদ্দিন বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ রয়েছে এবং আইনি দলগুলো তা এখন সংকলন করছে। তিনি বলেন, "কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে আমরা বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও নিয়ে যাব।"

আমিরুদ্দিন জানিয়েছেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ) ২.০-এ ২৯ জন মালয়েশিয়ানসহ মোট ৪২৮ জন কর্মী ছিলেন এবং ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটকের পর তাদের অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, "মালয়েশিয়া চুপ থাকবে না, সংসদও চুপ থাকবে না। আমরা আশা করি, আমাদের সহ নাগরিকরাও চুপ থাকবেন না — কারণ তারা আমাদের নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব ও মানবতা রক্ষার অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে।"

সুমুদ নুসান্তারা কমান্ড সেন্টারের (এসএনসিসি) মহাপরিচালক ড. সানি আরাবি জানান, ফ্লোটিলা আটকের সঙ্গে সম্পর্কিত আইনি প্রমাণ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (সেন্ট্রা)-তে পাঠানো হবে। তিনি বলেছেন, "এই বেআইনি আটকের ঘটনা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদের (আনক্লস) অধীনে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নিবন্ধিত দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে স্পষ্টতই লঙ্ঘন করেছেন।" তিনি আরও জানিয়েছেন, আইসিসির প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক নিউ স্ট্রেইটস টাইমস (এনএসটি) জানিয়েছে, সানি আরাবি নিশ্চিত করেছেন যে, এক মালয়েশিয়ান কর্মী রাজমান মাত আলি মিশন চলাকালে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং অস্ত্রোপচারের পর তিনি এখনও ইস্তাম্বুলে চিকিৎসাধীন আছেন। ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নির্যাতনের ফলে রাজমানের বাম ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে — চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে 'ট্রমাটিক নিউমোথোরাক্স' বলা হয়। তবে তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসাগত ঝুঁকির কারণে এখনই বিমানে ভ্রমণ সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, আমিরুদ্দিন আরও জানিয়েছে, জিএসএফ ২.০-এর মিশন ফ্লোটিলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আয়োজকরা দেশব্যাপী কনফারেন্স ও ফিরে আসা কর্মীদের সম্পৃক্ততায় একটি বিস্তৃত প্রচারণা কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, "সুমুদ ২.০ মিশন সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু গাজা মুক্তির কণ্ঠস্বর থামতে পারে না।" তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তৃতীয় জিএসএফ পরিচালনার প্রত্যাশাও রয়েছে আয়োজকদের।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ১০টায় বাকি ২৮ জন মালয়েশিয়ান কর্মী নিরাপদে কেএলআইএ-তে পৌঁছালে অপেক্ষায় থাকা পরিজনদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে এবং বিমানবন্দরে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।