Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর তিন মাস পর এখন বড় এক প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। প্রশ্ন এখন এই যে, তিনি কি এই যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়ছেন?

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কিছু সাফল্য দাবি করা হলেও ইরানের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বা যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো বড় ছাড় না দেওয়া এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা অটুট থাকায় পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে। 

অনেকে বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে দ্রুত বিজয়ের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। খবর রয়টার্সের। 

ওয়াশিংটনভিত্তিক এক বিশ্লেষক বলেন, এটি এমন একটি সংঘাতে রূপ নিচ্ছে যা শুরুতে স্বল্পমেয়াদি সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের প্রধান লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ‘সব বিকল্প টেবিলে রেখেছেন’।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জনমত হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি রিপাবলিকান দলের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন ট্রাম্পের সামনে দুইটি পথের একটি হলো সীমিত চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেকে বের হয়ে আসা, আরেকটি হলো সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি করা।

তবে ইরান এখনও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় কোনো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত নেই।

সব মিলিয়ে, তিন মাসের সংঘাত শেষে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত এবং কোনো পক্ষই স্পষ্ট বিজয়ের অবস্থানে নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।