Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় চীন ছদ্মবেশী কর্মীদের ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিনিধিদলের ওপর নজরদারি চালিয়েছে। বেইজিংয়ের এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ইলন মাস্কের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক পরিবেশক আসলে চীনের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই অভিযোগ তুলেছেন চীনা বংশোদ্ভূত মানবাধিকার কর্মী ও মুক্তমনা লেখক জেনিফার জেং।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ভোজসভার দুজন পরিচারিকার একটি ছবি শেয়ার করে জেং দাবি করেন, নারীদের একই ‘ইউনিফর্ম পরা’ ছবি চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে।

 

পরবর্তী একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, ছবিগুলোর একটিতে ইলন মাস্কের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়েট্রেস হলেন মেজর জেনারেল চেং চেং। তিনি এলিট ব্যাটালিয়ন কমান্ডার। সম্ভবত চীনের সামরিক অনুষ্ঠানের পরিচালনাসংক্রান্ত নির্দেশিকা তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছিলেন।

 

তৃতীয় একটি পোস্টে জেং বলেন, ‘আমার মনে হয় চেং চেংয়ের লাল পোশাকের নিচে একটি বন্দুক বা ওইজাতীয় কিছু ছিল।’

 

এ ছাড়াও এক্সে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ চলাকালীন একজন নারী পরিবেশিকা হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি ঘন ঘন নিজের কান ও চিবুক স্পর্শ করছেন।

 

পরে অনুসন্ধানে ওই ওয়েট্রেসের চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইউনিফর্ম পরা একটি ছবি পাওয়া যায়। ছবির সঙ্গে তার চেহারার ‘হুবহু’ মিল রয়েছে। কিন্তু নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, ছবির ব্যক্তিও ওই ওয়েট্রেস কি না।

তবে জেংয়ের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চীন সরকারও এই দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

 

বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। ২০২৩ সালে জেং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কানাডায় খালিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার ঘটনায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ভূমিকা ছিল। তার মতে, চীনের ‘উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে ফাঁসানো এবং ভারত ও পশ্চিমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা’।

 

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, পশ্চিমা দেশ ও লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে গোপনে গুপ্তচর ব্যবহার করার ইতিহাস চীনের রয়েছে।

 

অতীতের ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বহুল আলোচিত ফাং ফাং সন্দেহভাজন হানিপট অপারেশন। এ ছাড়াও পশ্চিমা গোয়েন্দারা বারবার সতর্ক করেছে যে, চীনের রাষ্ট্রীয় ‘দালালরা’ নিরীহ ছদ্মবেশে করপোরেট প্রযুক্তি ক্ষেত্র এবং কূটনৈতিক মহলে অনুপ্রবেশ করছে।

 

বিদেশি প্রযুক্তি খাতের নেতারা যখন চীনের বাজারে প্রবেশের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন সমালোচকরা সতর্ক করছেন যে, বেইজিংয়ের এই আতিথেয়তার পেছনে গোপন উদ্দেশ্য বা ঝুঁকিও থাকতে পারে।

 

এর আগে, মার্কিন প্রতিনিধিদল ও হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীরা বেইজিং ছাড়ার সময় চীনের দেওয়া উপহার, ক্রেডেনশিয়াল ব্যাজ, ল্যাপেল পিন এমনকি সেখানে ব্যবহারের জন্য দেওয়া ‘বার্নার ফোন’ (অস্থায়ী মোবাইল) পর্যন্ত বিমানে ওঠার আগে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। এটি মূলত কঠোর নিরাপত্তা ও সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধের কৌশল ছিল।

 

সূত্র: এনডিটিভি