ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের ওপর ভোট আকস্মিকভাবে বাতিল করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস) ওই ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে রিপাবলিকানরা ভোটে হেরে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ভোটই বাতিল করে দেওয়া হয়। খবর সিএনএনের।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অচলাবস্থায় ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উভয় কক্ষে (হাউস ও সিনেট) ভোটের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন বিরোধীপক্ষ ডেমোক্র্যাটরা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই প্রচারে কয়েকজন রিপাবলিকানের সমর্থনও পেয়েছে তারা।
এ বিষয়ে সবশেষ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি হাউসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষস্থানীয় সদস্য গ্রেগরি মিকস। ভোট বাতিলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শীর্ষস্থানীয় হাউস ডেমোক্রেটিক নেতারা।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস ক্রমাগত ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মতো আচরণ করছে।’
হাউস ডেমোক্রেটিক লিডার হাকিম জেফরিজ, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক ও ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রিপাবলিকানরা কাপুরুষের মতো যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের (ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলেশন) নির্ধারিত ভোট প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সমর্থনে পাস হতো এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শেষ করতে প্রেসিডেন্টের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতো।’
প্রস্তাব উত্থাপন করা মিকস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে মেমোরিয়াল ডে’র (জাতীয় দিবস) প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে পেট্রোলের দাম বাড়ছে। খাবারের দাম বাড়ছে। প্রেসিডেন্টের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের কারণে আমরা একটি ভোটের আয়োজন করেছিলাম, যা নিশ্চিতভাবেই পাস হতো। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভোট ছিল এবং তারা সেটা জানত। এ কারণে তারা একটি রাজনৈতিক খেলা খেলেছে। তারা প্রতারণা করেছে এবং ভোটটি পিছিয়ে দিয়েছে।’
মেমোরিয়াল ডে’র ছুটির পর নিম্নকক্ষের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে জুনের প্রথমদিকে এই ভোট হবে বলে আশার করছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মিকস সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার ধারণা হাউস স্পিকার মাইক জনসন ওই প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক রিপাবলিকান সহকর্মী নিজ নিজ এলাকায় চাপের মুখে পড়ছেন, যখন তারা খাবারের দাম ও গ্যাসের (জ্বালানি) দামের দিকে নজর দিচ্ছেন।’
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সিনেটেও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল।
প্রতিনিধি পরিষদের ভোট বাতিল করতে হলেও ট্রাম্পের দাবি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয়। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, সবাই আমাকে বলছে এটা নাকি অজনপ্রিয়। কিন্তু, আমি মনে করি এটা খুবই জনপ্রিয়, যখন মানুষ জানতে পারে, বিষয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত— এমন অস্ত্র যা লস অ্যাঞ্জেলেস বা বড় বড় শহরগুলোকে খুব দ্রুত ধ্বংস করে দিতে পারে।’
বিভিন্ন জরিপ অবশ্য সেকথা বলছে না। সম্প্রতি সিএনএনের একটি জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৭৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন ট্রাম্পের নীতিগুলো তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।