উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টা জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় বিমান বাহিনীর (আরএএফ) বহরে অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম (এপিকেবব্লিউএস) নামের এই আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়ছে।
রোববার (১৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে এই প্রযুক্তি সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে আকাশ থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে নিখুঁতভাবে শত্রুর ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
গত এপ্রিল মাসে ৪১ টেস্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন স্কোয়াড্রনের পাইলটরা আকাশে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। মূলত এর পরে এই প্রযুক্তি দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
এই এপিকেডব্লিউএস ব্যবস্থা রাডার ও ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে ড্রোনের গতিবিধি সনাক্ত করে এবং নির্ভুলভাবে আঘাত হানে। এটি সাধারণ ও দিকনির্দেশনাহীন (আনগাইডেড) রকেটগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁত ও লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তর করতে পারে। এর ফলে শত্রুপক্ষের ঝাঁকে ঝাঁকে আসা সস্তা ও সাধারণ আক্রমণকারী ড্রোনগুলোকে খুব কম খরচে এবং টেকসই উপায়ে ধ্বংস করা যাবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী লুক পোলার্ড বলেছেন, এই প্রযুক্তি বিমান বাহিনীকে অনেক কম খরচে তুলনামুলক অনেক বেশি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করতে সাহায্য করবে। টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো বরাবরই যুক্তরাজ্য ও ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি বা মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে, যা ইউরোপের পূর্ব সীমান্ত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুক্তরাজ্যের টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো পাহারায় থাকার পাশাপাশি স্থলভাগেও দেশটির শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবে যুক্তরাজ্যের ‘স্কাই সাব্রে’ ব্যবস্থা এবং বাহরাইনে ‘লাইটওয়েট মাল্টিরোল ক্ষেপণাস্ত্র’ মোতায়েন রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার তাদের এই টাইফুন যুদ্ধবিমানের বহরকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ৮৬০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বাজেট বা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন মোতায়েন এবং আধুনিকায়নের ফলে টাইফুন ফাইটার জেটগুলো ২০৪০-এর দশক পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।