ফিলিস্তিন ও আরববিদ্বেষী স্লোগান দিয়ে প্রাচীরঘেরা ওল্ড সিটির মুসলিম অধ্যুষিত ঐতিহাসিক এলাকার ভেতর কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা মিছিল নিয়ে প্রায় ছয় দশক আগে জেরুজালেমের পূর্বাংশ দখলের দিবস উদ্যাপন করেছে হাজারো উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলি।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ৭ জুন ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয়। এরপর তারা হিব্রু দিনপঞ্জিকা অনুসরণ করে প্রতিবছর ওই দখলের দিনটিকে ‘জেরুজালেম দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তাদের দিনপঞ্জিকা অনুসারে এ বছর জেরুজালেম দিবস পড়ে ১৪ মে, বৃহস্পতিবার।
ইসরায়েলিদের এ বছরের মিছিলের সময় ওল্ড সিটির বেশিরভাগ বাসিন্দাই ঘরের ভেতর নিজেদের আটকে রেখেছিলেন। তাদের সঙ্গে শহরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছেঁটে ফেলার লক্ষ্যেই ইসরায়েল উসকানিমূলকভাবে এ দিবসটি পালন করে বলে তারা মনে করেন।
ইসরায়েলি পতাকা ওড়াতে ওড়াতে হওয়া মিছিলে জেরুজালেমের ওই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় তরুণ ইসরায়েলিরা ‘তোমাদের গ্রাম পুড়ে যাক’, ‘আরবদের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
১৯৬৭ সালের পরও ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে তাদের দখলের আওতা বাড়িয়েছে। তাদের এ দখল ও সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং বিশ্বের সিংহভাগ দেশই এর বিরোধিতা করে আসছে।
ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে চায়।
“জেরুজালেম আমাদের পবিত্র শহর, এটা চিরকাল আমাদের পবিত্র শহর থাকবে,” বলেছেন মিছিলে অংশ নিতে হাইফার কাছে অবস্থিত বাড়ি থেকে জেরুজালেম যাওয়া ৫৩ বছর বয়সী ইসরায়েলি শিরা গেফান।
ইসরায়েলের দক্ষিণে আশকেলনের কাছে বসবাস করা ৬৫ বছর বয়সী ইসরায়েলি বলেন, “এখানে আসতে পেরে আমরা খুশি ও আনন্দিত। এটা বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র এবং এটা সব ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের প্রাণকেন্দ্র।”
তিনি নিজের নামের বাকি অংশ বলতে রাজি হননি।
এ মিছিল উপলক্ষে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দামেস্ক গেটসহ জেরুজালেমের বিভিন্ন অংশে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করে। এদের অনেকের কাছে ছিল দাঙ্গাপ্রতিরোধী সরঞ্জাম। শহরটির মুসলিম অধ্যুষিত অংশে প্রবেশের প্রধান দ্বার হল দামেস্ক গেট।
যে ফিলিস্তিনিরা ওল্ড সিটিতে বসবাস করেন না তারা যেন সেখানে ঢুকতে না পারেন তা নিশ্চিতে বৃহস্পতিবার পুলিশ এ দামেস্ক গেটের চারপাশে ব্যারিকেড বসিয়েছিল।
মিছিলের আগে জোর করে দোকান বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ওল্ড সিটির অনেক দোকানদার।
পশ্চিম জেরুজালেম থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে থামে ওয়েস্টার্ন ওয়ালে। এটি প্রাচীন এক স্থাপনার অবশিষ্টাংশ, যে স্থাপনাটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত। মুসলিমদের কাছে ওই এলাকাটি পরিচিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল হারাম আল শরীফ হিসেবে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী, উগ্র-ডানপন্থি ইতামার বেন-গভির ওই চত্বরে গিয়ে ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় তার পেছনে অনেক নিরাপত্তারক্ষী দাঁড়িয়ে ছিলেন।
“টেম্পল মাউন্ট আমাদের হাতে। টেম্পল মাউন্ট আমাদের,” বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মিছিলের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি পুলিশ ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা চাওয়া অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওল্ড সিটি থেকে বের করে দেয়। পরে সাংবাদিকদের শহরে ঢুকতে দিলেও অস্ট্রিয়ান হসপিস এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।