Image description

২০২৫ সালের জুন থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক এসব কথা বলেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আরও কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে পারি না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।‘

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদারে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলোই প্রমাণ করে আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কতটা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।‘

সারাহ কুক বলেন, আগামী জুনে লন্ডনে ইলিসিট ফাইন্যান্স সামিট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অবৈধ অর্থপ্রবাহ প্রতিরোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে আলোচনা হবে।

২৩ ও ২৪ জুন লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকার, নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিশ্বব্যাপী অবৈধ অর্থায়ন রোধ এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করাই এ সম্মেলনের লক্ষ্য।

সারাহ কুক আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে আমরা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি।‘

সম্মেলনে কালোটাকা প্রতিরোধ, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি, পাচার চক্র ভাঙা এবং আধুনিক অর্থ পাচারের কৌশল—বিশেষ করে আবাসন খাতে অর্থ পাচার, ক্রিপ্টো সম্পদের অপব্যবহার ও অবৈধ সোনার ব্যবসা—মোকাবিলায় নতুন চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসও বক্তব্য দেন।