Image description

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার দাবিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে স্থানীয় আদালত চত্বরে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ফ্লোরিডার টাম্পার একটি আদালতে মামলার শুনানির সময় দেখা যায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। লিমন-বৃষ্টির পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে না থাকলেও, তাদের সহপাঠী ও শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আদালত কক্ষে ভিড় জমান।

এদিন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহকে জামিন ছাড়াই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ৮ হাজার মাইল দূর থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জামিল ও বৃষ্টি ছিলেন পরিবারের সদস্যের মতো। শুনানির পর ন্যায় বিচারের দাবিতে তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায় আদালত চত্বরে।

বন্ধুরা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখানে একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ। আদালতের বিচারককে উদ্দেশ্য করে আবির আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে যে আমরা বাংলাদেশি মানুষ। আমরা এখানে একটি পরিবারের মতো। একসঙ্গে খাই, ঘুরতে যাই এবং একসঙ্গে থাকি।’

মঙ্গলবার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আদালতে আসেন যাতে তারা আইনি প্রক্রিয়াটি সরাসরি দেখতে পারেন। সালমান সাদিক শুভ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা জানতে চাই আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটছে এবং ঘটেছে। আমরা নিজেদের দায়িত্বশীলতা থেকে মনে করি, এই বিষয়ে আমাদের একে অপরের পাশাপাশি থাকা উচিত। বাংলাদেশে যারা জামিল এবং বৃষ্টির বিষয় নিয়ে জানতে চায়, আমরা এখানে যা দেখছি সেই অভিজ্ঞতা তাদের জানাতে চাই।’

রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া খুব কঠিন। দেখুন, আমরা যখন বাড়ি ছেড়ে ৮ হাজার মাইল পথ পাাড়ি দিয়ে এখানে আসি, তখন তারাই আমাদের পরিবার এবং সবকিছু। আমরা সব অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হই। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আতঙ্কিত। কারণ তাদের নিজেদের ঘর, রান্নাঘরে খুন করা হয়েছে। আমার কাছে এর কোনো ভাষা নেই।’

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ শিক্ষার্থীদের এই সংহতির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এত সংখ্যক বন্ধুকে আসতে দেখব আশা করিনি। আমরা শুধু একজন পারিবারিক সদস্য আসার অপেক্ষায় ছিলাম। শিক্ষার্থীরা তাদের হারানো দুই বন্ধুকে আগলে রেখেছে এবং তাদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।’

২৭ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকা লিমনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে ফ্রাঙ্কলিনের একটি ব্রিজে উপরে বা পাশে। বাসায় পাওয়া আহেত্যাকাণ্ডের আলামত থেকে নাহিদা বৃষ্টির ডিএনএ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের নথিতে। স্থানীয় জলাশয়ে মানুষের কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেলেও তা বৃষ্টির কি না তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহর মামলার শুনানির দিন ছিল মঙ্গলবার। শুনানি শেষে হিলসবোরো কাউন্টি জজ জে. লোগান মারফি নির্দেশ দিয়েছেন, আবুঘারবিয়াহ কোনো সাক্ষী বা নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে মঙ্গলবার সকালে আবুঘারবিয়াহ আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি আইনজীবী জেনিফার স্প্র্যাডলি তার উপস্থিতি মওকুফ করেন এবং বিচারপূর্ব আটকের বিষয়ে একমত হন।

হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দুটি খুনের পাশাপাশি অবৈধভাবে অস্ত্র রাখা, হত্যার আলামত নষ্ট করা এবং পুলিশকে তথ্য না দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে এ সব অভিযোগে বিভিন্ন জরিমানা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের কারণে আবুঘারবিয়াহ জামিন ছাড়াই জেলহাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে আবুঘারবিয়াহর মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে আশা তাদের।

 

সূত্র: টামপা বে ২৮