Image description

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দাবি। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান শুধু আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টাতেই নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনেও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। এ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে।

গত ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন বলে জানা যায়।

এর আগে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আসিম মুনির। ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ইরান সফরে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় নেতৃত্ব প্রদানের পর থেকেই আসিম মুনির বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। ওই সংঘাতে ভূমিকার কারণে পরে তিনি ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হন।

পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রিসভা ২০২৫ সালের মে মাসে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এই পদে উন্নীত করে। তিনি আইয়ুব খানের পর পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল হিসেবে স্বীকৃতি পান।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, শুধু সামরিক সাফল্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার ভূমিকা তাকে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রেখেছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক বিশ্লেষক কামার চিমা বলেন, আঞ্চলিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে আসিম মুনিরের সক্রিয় ভূমিকা তাকে একজন প্রভাবশালী সামরিক ও কৌশলগত নেতায় পরিণত করেছে।

শীর্ষনিউজ