Image description

ইসরায়েলি হাইফা বন্দরে শস্য বোঝাই একটি জাহাজ পৌঁছেছে। ইউক্রেন বলছে, ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে আসা ওই জাহাজে এমন শস্য (ধান-গম) ছিল, যা রাশিয়া দখল করা ইউক্রেনের এলাকা থেকে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন এই চালানটিকে ‘চুরি করা শস্য’ বলছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার সকালে কিয়েভে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে একটি বৈঠকে ডেকেছেন। সেখানে তাকে, ইক্রেনের প্রতিবাদপত্র এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হবে। 

ইউক্রেন আরো অভিযোগ করেছে, তারা চলতি মাসেই ইসরায়েলকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তারা বলেছিল, ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে আসা একটি চালানে রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের শস্য আছে।

যে ভূখণ্ডে ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল ঠিকমতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

সিবিগা এক্স-এ বলেন, ‘হাইফায় চুরি করা পণ্য নিয়ে আসা আগের জাহাজটির বিষয়ে ইউক্রেনের ন্যায্য অনুরোধের প্রতি ইসরায়েলের যথাযথ সাড়া না দেওয়াটা বোঝা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু হাইফায় এমনই আরেকটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে, আমরা আবারও ইসরায়েলকে চুরি করা শস্য গ্রহণ না করতে এবং আমাদের সম্পর্কের ক্ষতি না করতে সতর্ক করেছি।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ইউক্রেনের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় টুইটার বা গণমাধ্যমে নয়, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেন তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি এবং আইনি সহায়তাও চায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, ইসরায়েল আইন মেনে চলে।


অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে জানায়, রাশিয়া ইউক্রেনের দখল করা এলাকা থেকে শস্য নিয়ে তা নিজেদের পণ্য হিসেবে বিদেশে বিক্রি করছে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে।

কূটনৈতিক টানাপড়েন

এ নিয়ে ইউক্রেন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া দখল করা পূর্ব ইউক্রেন থেকে শস্য নিয়ে ইসরায়েলে পাঠাচ্ছে, আর ইসরায়েল সেগুলো গ্রহণ করছে। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, ইউক্রেন তাদের এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।

জাহাজের তথ্য অনুযায়ী, ‘প্যানোর্মিটিস’ নামে একটি জাহাজ প্রায় ২৫ হাজার টন গম ও বার্লি নিয়ে হাইফা বন্দরে পৌঁছেছে এবং নোঙরের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছিল।

ইউক্রেন সতর্ক করেছে, যদি এই জাহাজ বা এর পণ্য ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক সমস্যা হতে পারে।

একটি সূত্র জানায়, এর আগের অভিযোগগুলো ইসরায়েল গুরুত্ব দেয়নি। এর আগেও ‘আবিনস্ক’ নামে একটি রুশ জাহাজ প্রায় ৪৪ হাজার টন শস্য নিয়ে একই বন্দরে আসে, যেটিকে ইউক্রেন ‘চুরি করা শস্য’ বলে দাবি করে। এদিকে ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ জানিয়েছে, চলতি বছরে ইসরায়েল এমন অন্তত চারটি শস্যের চালান গ্রহণ করেছে।

সামাজিক মাধ্যমের সংঘাত 

এই ঘটনা নিয়ে ইউক্রেন ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। 

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা বলেন, ‘ইউক্রেন ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ভালো এবং দুই দেশেই উপকারে আসে। কিন্তু ‘চুরি করা ইউক্রেনের শস্য’ নিয়ে রাশিয়ার বাণিজ্য যেনো এই সম্পর্ক নষ্ট না করে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, আবার যদি এমন জাহাজ হাইফা বন্দরে আসে, তাহলে ইসরায়েল যেন সেই শস্য গ্রহণ না করে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাবে বলেও জানান।

এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, প্রমাণ দিতে হবে। তিনি বলেন, এখনো কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা হবে।