Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘উপযুক্ত ও লাভজনক’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার কোনো প্রয়োজন দেখছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর একটি চুক্তির জন্য অপেক্ষা করা হবে।

এদিন ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে দৃশ্যত বিরক্ত হন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমাদের এটার প্রয়োজন নেই। কেন এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে? আমি কেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব, যখন সাধারণ অস্ত্র দিয়েই তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব? না, আমরা এটি ব্যবহার করব না। পারমাণবিক অস্ত্র কারও ব্যবহার করা উচিত নয়।”

এর মধ্যেই ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানের তেলবাহী একটি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, জাহাজটি তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ অঞ্চলে অবস্থান করছিল এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে সন্দেহভাজন মাইন স্থাপনকারী নৌযান দেখলেই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ওই এলাকায় দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ অন্তত ২৬টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ইসরাইলও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’-এর অপেক্ষায় আছে তেল আবিব।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তাদের দেশও উত্তেজনা নিরসনে আলোচনা ও সমঝোতায় আগ্রহী। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ক্রমাগত হুমকি-ধামকি আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা।

শীর্ষনিউজ