ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক শাহর পুত্র রেজা পাহলভি। বৃহস্পতিবার জার্মানির রাজধানী বার্লিন সফরকালে পশ্চিমাদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি। এ সময় জার্মানির সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে দেখা না করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহর পুত্র পাহলভি ইউরোপের বিরুদ্ধে নীরবতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, গত বছরের শেষদিকে হাজারও মানুষের প্রাণহানি ঘটানো তেহরান সরকারের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন ইউরোপ কেবল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে।
বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখন আর প্রশ্ন নয়। পরিবর্তন আসন্ন। আসল প্রশ্ন হলো, পশ্চিমা গণতান্ত্রিক বিশ্ব যতক্ষণ পর্যন্ত কেবল দর্শক হয়ে থাকবে, ততক্ষণ আরও কত ইরানিকে প্রাণ দিতে হবে।
পাহলভির উপস্থিতিতেই সেন্ট্রাল বার্লিনে তার সমর্থক ও বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেখানে পাহলভির শরীরে লাল রঙের তরল ছুড়ে মারার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
• সম্ভাব্য বিরোধী নেতা
নির্বাসিত পাহলভি গত বছর ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর সম্ভাব্য বিরোধী নেতা হিসেবে সামনে আসেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। এছাড়া শাহর শাসনের অবসানের প্রায় অর্ধশতাব্দী পর পাহলভির জনসমর্থন আসলে কতটা, তা স্পষ্ট না হওয়ায় পশ্চিমা সরকারগুলো তাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জার্মানি-সহ ইউরোপীয় দেশগুলো এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
পাহলভির জার্মানি সফর এমন এক সময়ে হলো যখন সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি রেখেছে; যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
পাহলভি বলেন, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎসের সরকার তার সফরের সময় কোনও বৈঠকের প্রস্তাব না দেওয়াটা লজ্জাজনক। তিনি বলেন, আপনাদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আপনারা কার সাথে কথা বলবেন, সেই অধিকার আপনাদের আছে।
সূত্র: রয়টার্স।