Image description

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলায় দুই সংসদ সদস্যকে অধিবেশন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

লি অ্যান্ডারসন এবং জারাহ সুলতানা হাউস অফ কমন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ তোলেন। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্থানীয় সময় সোমবারের (২০ এপ্রিল) অধিবেশনে, সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার সময় এই ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে বিতর্কিত ব্যক্তি জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠার পর ম্যান্ডেলসনকে তার পদ থেকে সরানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। খবর জিও নিউজের। 

বক্তব্য দেওয়ার সময় অ্যান্ডারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সমস্যা হলো- কেউ তাকে বিশ্বাস করে না। জনগণ বিশ্বাস করে না, এই পাশের এমপিরা বিশ্বাস করে না, এমনকি তার নিজের দলের সদস্যরাও বিশ্বাস করে না। তাহলে কি তিনি স্বীকার করবেন যে তিনি মিথ্যা বলেছেন?

এ সময় স্পিকার লিন্ডসে হোয়েল তাকে বক্তব্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। কিন্তু অ্যান্ডারসন তা অস্বীকার করে বলেন, আমি এটি প্রত্যাহার করব না। 

এরপর তাকে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে বলা হয়।

পরে একই অধিবেশনে এমপি জারাহ সুলতানা প্রধানমন্ত্রীকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী’ বলে অভিহিত করেন এবং দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলেন। স্পিকার তাকে বেরিয়ে যেতে বললেও তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেন, যার মাধ্যমে তাকে সাময়িকভাবে পার্লামেন্টের কার্যক্রম থেকে স্থগিত করা হয়।

স্থগিতাদেশের পরও সুলতানা নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কিয়ার স্টারমার একজন নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী। তার ন্যূনতম সততা থাকলে তিনি পদত্যাগ করতেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য অন্য সদস্যকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ বলা বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলা নিষিদ্ধ।

২০২২ সালের পর এই প্রথমবার এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।