২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তার পরবর্তী উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটলেও পর্দার আড়ালে আলোচনা থেমে নেই দেশদুটির মধ্যে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের পর লন্ডন, মাস্কাট, থাইল্যান্ড ও দোহায় দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকরা অন্তত চারটি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন হলেও বড় ধরনের সংকট এড়াতে এবং পরস্পরের মনোভাব বুঝতে এ ধরনের গোপন বৈঠক বা ‘ব্যাক চ্যানেল যোগাযোগ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যুদ্ধের ঠিক দুই মাস পর থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকগুলোর মধ্যে দুটি ‘ট্র্যাক ১.৫’ (যেখানে বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তারা অংশ নেন) এবং বাকি দুটি ছিল ‘ট্র্যাক ২’ পর্যায়ের বৈঠক (যেখানে মূলত বিশেষজ্ঞ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন)।
লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আইআইএসএসের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লন্ডনে প্রথম ট্র্যাক ১.৫ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
এরপর অক্টোবরে ওমানের মাস্কাটে দ্বিতীয় দফায় একই পর্যায়ের আরেকটি বৈঠক হয়। ভারত অতীতে এ ধরনের সম্মেলনে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাঠালেও সম্পর্কের তিক্ততার কারণে এবার বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে।
পরে ট্র্যাক ২ আলোচনার অংশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা মিলিত হন। সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘দ্য চাও ট্র্যাক’ শীর্ষক থাইল্যান্ডের বৈঠকটি দিল্লি ও ইসলামাবাদ ভিত্তিক দুটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যৌথভাবে আয়োজন করে। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের প্রায় ডজনখানেক সক্রিয় যোগাযোগমাধ্যম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা চার দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাহালগাম জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করাসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চরম স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, শুরুর দিকের বৈঠকগুলো বেশ উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও পরবর্তী সময়ে দুই দেশেরই আলোচনার সুর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।