ডনের সম্পাদকীয়
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস কখনো অতিরিক্ত আশাবাদী, আবার কখনো সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের (ডুমসডে) আশঙ্কায় ভরা। তবুও মনে হচ্ছে, দুই পক্ষের মধ্যেই আবার বৈঠকে বসে শান্তির একটি সুযোগ দেয়ার কিছুটা সদিচ্ছা রয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ আবারও বৈঠকে বসতে পারে। সম্ভবত এই সপ্তাহেই এবং হয়তো পাকিস্তানে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পাকিস্তান এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা ভেঙে পড়া ঠেকাতে অতিরিক্ত কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বিভিন্ন দেশের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন; ইসরাইল বাদে প্রায় সব বড় দেশই চায় আলোচনা সফল হোক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির পথে প্রধান বাধা হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধ।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে যথেষ্ট নমনীয়তা দেখাতে হবে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়ে মূলত ইসরাইলের অবস্থানই পুনরাবৃত্তি করছে। ইরান নাকি ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছাড় দিতে রাজি হয়েছে, যেমন পাঁচ বছরের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হালকা করা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধের আগের শান্তি সংলাপের বিষয়ে বলেছিলেন, একটি চুক্তি তখন প্রায় কাছাকাছি ছিল।
তাই যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ইরানের কাছ থেকে নমনীয়তা চায়, তবে তাকেও কঠোর অবস্থান ছেড়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে যেতে হবে। হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে, ডনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের অবস্থান নরম করার বদলে উল্টো কঠোরপন্থীদের আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং তাদের শান্তি প্রক্রিয়া থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই পদক্ষেপের খুব কম সমর্থন রয়েছে। চীন এটিকে বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে।
বারবার উল্লেখ করা হচ্ছে যে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকেই অনেক বিশ্লেষক আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে দেখছেন। তাই আস্থা গড়ে তুলতে ওয়াশিংটনের দিক থেকেই প্রথমে সদিচ্ছার প্রমাণ দেয়া জরুরি। যদি যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইসরাইলের বক্তব্য, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক হুমকি ও ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’-এর বিষয় পুনরাবৃত্তি করতে থাকে, তাহলে শান্তি প্রক্রিয়া খুব দূর এগোবে না। কিন্তু যদি তারা সত্যিই নতুন পথে হাঁটে, তাহলে ইরানকে ঘিরে অবরোধ বন্ধ করতে হবে, ভবিষ্যতে আর আগ্রাসন হবে না- এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে এগোতে হবে।
একইভাবে ইরানকেও সদিচ্ছার ভিত্তিতে দেয়া প্রস্তাবের ইতিবাচক জবাব দিতে হবে। আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করা হচ্ছে, দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে শেষ পর্যন্ত একটি ন্যায্য সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।