অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া হামাস-ইসরায়েল ‘যুদ্ধবিরতি’র নীতিমালা লঙ্ঘন করে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই হামলা চালানো হয়।
গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার উত্তর গাজায় চালানো এই হামলায় নিহতদের মধ্যে তিন বছর ও ১৪ বছর বয়সী দুটি শিশু রয়েছে।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজা শহরে একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তিন বছরের এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে পুলিশ ভ্যানটি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও অন্তত ৯ জন পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিন ভোরে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি গুলিবর্ষণে আরও এক ব্যক্তি নিহত হন বলে মাহমুদ বাসাল নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি মোড়ের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও বেশ কয়েকজন নিহত হন। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ড্রোন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই স্থানে উপস্থিত একদল ফিলিস্তিনি হতাহত হন। সেখান থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ক্যাফের কাছে ওই হামলা চালানো হয় এবং এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কিছুটা স্তিমিত হলেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় তাদের দৈনন্দিন অভিযান ও হামলা অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও ২,১১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় মোট ৭২,৩৩৬ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সূত্র: আল-জাজিরা
শীর্ষনিউজ