Image description

ইরাকের পার্লামেন্ট নিজার আমেদিকে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল, যা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে পঙ্গু করে দিয়েছিল। খবর আল জাজিরার।

প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) থেকে মনোনীত আমেদি গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দফার ভোটে ২২৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসান্না আমিন নাদেরকে অনায়াসে পরাজিত করেন, যিনি মাত্র ১৫টি ভোট পেয়েছেন। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আক্রমণে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর তিনি ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হলেন।

ভোটের পর পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে আমেদি আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ যে বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন।’ তিনি সরকারের তিনটি শাখার সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং ‘ইরাক ফার্স্ট’ (সবার আগে ইরাক) নীতিতে অবিচল থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালীন ইরাককে লক্ষ্য করে চালানো হামলারও নিন্দা জানান তিনি।

এই নির্বাচনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইরাক ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে, যা চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষিত একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়েছে।

ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, অন্যদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরাকি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিহত হয়েছিলেন। এখন সবার দৃষ্টি তীক্ষ্ণভাবে নিবদ্ধ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিকে, যা রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্ফোরক একটি বিষয়।

২০০৩ সালে ওয়াশিংটনের আক্রমণের পর প্রবর্তিত ইরাকের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা-ভাগাভাগি ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই শিয়া মুসলিম, সংসদীয় স্পিকারকে সুন্নি এবং প্রেসিডেন্টকে একজন কুর্দি হতে হয়।

বাগদাদ থেকে আল জাজিরার মাহমুদ আবদেল ওয়াহেদ জানিয়েছেন যে, ডিসেম্বরের শুরুতে সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এই ভোট বেশ কয়েকবার স্থগিত করা হয়েছিল। আবদেল ওয়াহেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিশেষ করে কুর্দি দলগুলোর মধ্যকার বিরোধের কারণে এই নির্বাচন পিছিয়ে গিয়েছিল।’

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া দলগুলোর জোট কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক গত জানুয়ারিতে ঘোষণা করেছিল, তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকিকে এই পদের জন্য মনোনীত করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর প্রতিক্রিয়ায় হুমকি দিয়েছিলেন যে, আল-মালিকিকে সরকার গঠনের জন্য মনোনীত করা হলে ইরাকের প্রতি মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, আমেদি এখন ১৫ দিন সময় পাবেন পার্লামেন্টের বৃহত্তম জোটের মনোনীত ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। মনোনীত ব্যক্তিকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।

৫৮ বছর বয়সী আমেদি একজন পেশাদার সরকারি কর্মকর্তা, যিনি কয়েক দশক ধরে ইরাকি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কাটিয়েছেন। এর আগে তিনি দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরাক প্রায় ১৫০ দিন নতুন সরকার ছাড়াই অতিবাহিত করেছে।