যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ইরানকে ‘পুরো দেশজুড়ে বোমা হামলার’ হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা ব্যয়বহুল এই সংঘাতের জন্য নতুন এক যুক্তিও তুলে ধরছেন। তার দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তা নাকি স্বয়ং ঈশ্বরই চান। তবে, ঈশ্বর সংঘাত পছন্দ করে না বলেও জানান তিনি।
গতকাল সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চালাচ্ছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ঈশ্বর সমর্থন করেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মানুষের প্রাণ নিয়েছে, অসংখ্য মানুষকে আহত করেছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু ঘটেছে।
হোয়াইট হাউসে প্রেস ব্রিফিংয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তা-ই মনে করি, কারণ ঈশ্বর ভালো। আর ঈশ্বর চান মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকে।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার যুদ্ধবিষয়ক ভাষার একটি পরিবর্তন নির্দেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে—এ নিয়ে তিনি আগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যার মধ্যে ‘রেজিম পরিবর্তন’ তার লক্ষ্য কিনা, সে বিষয়েও দ্বিধা ছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি সংঘাতটিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে আরও বিস্তৃত হামলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছেন।
এর আগে, গতকাল সোমবারই তিনি হুমকি দেন—ইরানের বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের সরকার উৎখাত করতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দয়া করে বোমা হামলা চালিয়ে যান’ বলে অনুরোধ করছে।
সংঘাত বাড়তে থাকায় তিনি ঈশ্বরের দিকনির্দেশনা চেয়েছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাব ট্রাম্প দেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সহিংসতায় ঈশ্বর দুঃখ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ঈশ্বর সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর যা ঘটছে তা পছন্দ করেন না। আমিও পছন্দ করি না। অনেকে বলে, আমি এটা উপভোগ করি। আমি করি না। আমি এটা উপভোগ করি না।’
তিনি আরও বলেন, তার মেয়াদকালে তিনি ‘আটটি যুদ্ধ শেষ করেছেন।’ যার মাধ্যমে তিনি প্রায়ই ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাকে এখন আমরা যা করছি তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ দেয়।’